ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, হামলাকারীদের খুঁজছে পুলিশ
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট: কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: প্রায় ৫৫ বছর ধরে জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত চলা বাংলাদেশের অর্থবছরের সময়সূচি বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন নিয়মে অর্থবছর শুরু হবে ১ এপ্রিল এবং শেষ হবে ৩১ মার্চ। দীর্ঘদিনের এই পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বর্ষাকালে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে কাজ শেষ করার সুযোগ তৈরির কথা জানিয়েছে সরকার।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে অন্তর্বর্তীকালীন সময় ধরে জুলাই ২০২৭ থেকে মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত নয় মাসে শেষ করা হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই এবং শেষ হয় ৩০ জুন। এই সময়সূচি অনুযায়ী বাজেট প্রণয়ন, সরকারি আয়-ব্যয়, রাজস্ব আদায়, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ রাষ্ট্রের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে একবার ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ৩০ জুন ১৯৭২ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি অর্থবছর চালু করা হয়েছিল। এরপর থেকে জুলাই-জুন সময়সূচিই বহাল রয়েছে।
সরকারের যুক্তি, বর্তমান অর্থবছরের শেষ তিন মাস এপ্রিল, মে ও জুনে দেশে বর্ষা শুরু হয়। এ সময়ে সড়ক, সেতু, পানি উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারের অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে বর্ষার কারণে কাজের মান নষ্ট হয় এবং জনদুর্ভোগ বাড়ে। নতুন সময়সূচিতে অর্থবছরের শেষ তিন মাস হবে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ। ফলে শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। শুধু ক্যালেন্ডারের তিন মাস পরিবর্তন করলেই উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি, ব্যয় বৃদ্ধি বা দুর্নীতির মতো সমস্যার সমাধান হবে না। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, অর্থছাড়, সরকারি ক্রয়, রাজস্ব আদায় ও প্রকল্প তদারকিতে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, অর্থবছরের সময় পরিবর্তন করলেই বাজেট বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসবে না। তাঁর মতে, উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়া, বারবার সংশোধন, বরাদ্দ বৃদ্ধি ও দুর্নীতির মতো সমস্যার সঙ্গে শুধু বর্ষাকালের সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক মো. আহসান হাবিব মনে করেন, নতুন সময়সূচি বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দ, অর্থের ব্যবহার ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সংস্কার জরুরি। নতুন অর্থবছর চালু করতে সরকারি ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আনতে হবে। এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগের সফটওয়্যার এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা হালনাগাদ করতে হবে। আয়কর, রিটার্ন, ভ্যাট, ব্যাংক ও বিমা খাতের করবর্ষ, কোম্পানির অডিটসহ বিভিন্ন আর্থিক কার্যক্রমের সময়সীমাও নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে।
এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আর্থিক হিসাবের সমন্বয় এবং চলমান প্রকল্পগুলোর মেয়াদ ও অর্থায়ন নতুন সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, লেজিসলেটিভ বিভাগ ও অর্থ বিভাগকে নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অর্থবছর শুরু হয়। ভারত, যুক্তরাজ্য ও জাপানে এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর প্রচলিত। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে জুলাই-জুন সময়সূচি অনুসরণ করা হয়। চীন, জার্মানি ও ব্রাজিলে জানুয়ারি-ডিসেম্বর এবং যুক্তরাষ্ট্রে অক্টোবর-সেপ্টেম্বর অর্থবছর।
বাংলাদেশে অর্থবছর পরিবর্তনের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালেও তৎকালীন সরকার সময়সূচি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au