অনুষ্ঠানস্থল না পেয়ে কলকাতায় সিজেপির কর্মসূচি বাতিল
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: শেষ মুহূর্তে অনুষ্ঠানস্থল না পাওয়ায় কলকাতায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বাতিল করতে হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি)। সংগঠনটির অভিযোগ, অনুষ্ঠানস্থলের মালিকেরা বিজেপি নেতাদের কাছ…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর দুর্ঘটনার দায় নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। বর্তমান সরকারের নেতারা তৃণমূল আমলের অব্যবস্থাকে দায়ী করলেও সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিমের দাবি, এভাবে দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।
মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনে আগুন লাগে। ভবনটিতে একাধিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল। আগুনের ধোঁয়া দ্রুত আশপাশের হোটেলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়।
বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁরা ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আগের সরকারের সময়কার অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেন।
দমকলমন্ত্রী বলেন, ভবনের প্রতিটি তলায় চার-পাঁচটি করে হোটেল ছিল। অধিকাংশ কক্ষে কোনো জানালা ছিল না। একটি কক্ষে জানালা থাকায় সেখান থেকে মই দিয়ে দুজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, ভবনটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে আরও মানুষকে বাঁচানো সম্ভব হতো। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময় কলকাতা পুরসভা কীভাবে এসব হোটেলকে ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি দিয়েছিল, তা তদন্ত করা হবে। অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি সাবেক পুরমন্ত্রী ও মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করেন। তাঁর প্রশ্ন, ওই ভবনে হোটেল পরিচালনার অনুমতি এবং ট্রেড লাইসেন্স কীভাবে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে একাধিক এসি ব্যবহারের অনুমতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বর্তমান সরকারের অভিযোগের জবাবে ফিরহাদ হাকিম বলেন, একটি ভবনে ট্রেড লাইসেন্স ছিল কি না, তা একজন মেয়রের পক্ষে প্রতিটি ক্ষেত্রে যাচাই করা সম্ভব নয়। অগ্নিনিরাপত্তা-সংক্রান্ত অনুমোদন ও অডিটের বিষয়টি দমকল বিভাগের দায়িত্ব বলেও দাবি করেন তিনি।
ফিরহাদ বলেন, রাজনৈতিকভাবে একে অপরকে দোষারোপ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁর ভাষায়, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকানোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো যদি পুরনো সরকারের ওপর দায় চাপানো হয়, তাহলে মানুষের জীবন রক্ষা হবে না। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে একটি নির্দিষ্ট ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ বা এসওপি তৈরির প্রস্তাবও দেন তিনি।
ফিরহাদের মতে, দমকল বিভাগের পাশাপাশি প্রতি বছর স্বাধীন বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ভবনগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা অডিট করা উচিত। সরকারি জনবল দিয়ে সব ভবন নিয়মিত যাচাই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অগ্নিনিরাপত্তার ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে তিনি কলকাতার স্টিফেন কোর্ট ও আমরি হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি দিল্লির সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও উল্লেখ করেন।
কলকাতার অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, হোটেল পরিচালনার অনুমোদন এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার দেওয়া ছাড়পত্র নিয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।
সূত্র-আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au