স্বামীর জানাজা-দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. দীপু মনিকে স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: বাংলাদেশে ইয়াবার বিস্তার দীর্ঘদিনের একটি বড় মাদক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেথামফেটামিনযুক্ত এই উত্তেজক মাদককে থাই ভাষায় ‘ক্রেজি পিল’ বা ‘পাগলের বড়ি’ বলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ। কিছু ক্ষেত্রে সাফল্য এলেও দেশজুড়ে এর ব্যবহার ও অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
কালোবাজারে ইয়াবার দাপট
ইয়াবা মূলত মেথামফেটামিন দিয়ে তৈরি একটি বড়ি, যা অত্যন্ত শক্তিশালী ও আসক্তিকর উত্তেজক মাদক। সাধারণত ব্যবহারকারীরা বড়িটি গুঁড়া করে ধূমপানের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। কেউ কেউ সরাসরি বড়িও খেয়ে থাকেন।
ইয়াবা গ্রহণের পর সাময়িকভাবে সতর্কতা ও কর্মশক্তি বেড়ে যায়। একই সঙ্গে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপও বাড়ে। তবে দীর্ঘদিন বা অতিরিক্ত ব্যবহারে সন্দেহপ্রবণতা, মানসিক বিকার, খিঁচুনি, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, বাংলাদেশে ইয়াবা হাজারো মানুষকে মাদকাসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইয়াবার বড়িতে মেথামফেটামিনের পাশাপাশি ক্যাফেইন ও অন্যান্য ভেজাল উপাদানও মেশানো হয়। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই মাদকের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
বাংলাদেশে ইয়াবার বড় বাজার গড়ে ওঠার অন্যতম কারণ প্রতিবেশী মিয়ানমারের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ইয়াবা উৎপাদন ব্যাপকভাবে কেন্দ্রীভূত।
মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো চোরাই বাংলাদেশি পণ্যের বিনিময়ে আংশিক মূল্য হিসেবে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ ব্যবহার করছে।মিয়ানমার থেকে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসব এলাকায় নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে মাছ ধরার নৌকা মিয়ানমারে যাওয়ার পর অনেক সময় সেগুলো মাদক নিয়ে দেশে ফিরে আসে।
বাংলাদেশে আসা ইয়াবার বেশির ভাগই দেশের ভেতরে ব্যবহার করা হলেও কিছু চালান ওমান, সৌদি আরব ও দুবাইয়ের মতো দেশেও পাচার করা হয়।
‘প্রতিদিনের কঠিন জীবন’ থেকে মুক্তির চেষ্টা
২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে ইয়াবার ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে শুরু করে। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি অংশ জীবনের প্রতিদিনের কঠিন বাস্তবতা থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে এই মাদকের দিকে ঝুঁকছে।
সরকারের একজন সমাজকর্মী আদনান জোবায়ের বলেন, বাংলাদেশে ইয়াবা এত ব্যাপক হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এটি সহজে বহন করা যায় এবং অন্যান্য মাদকের তুলনায় অনেক সস্তা। ব্যবহারকারীরা দ্রুত এর প্রভাব অনুভব করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এতে নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।
আইন ও অভিযানে কিছুটা সাফল্য
ইয়াবার অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কয়েক বছর ধরে অভিযান চালিয়ে আসছে। ২০১৮ সালে সরকার মাদকবিরোধী আইনে ইয়াবা রাখাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযানে মাদক জব্দের পরিমাণও বেড়েছে। গত বছর ইয়াবাসহ অ্যামফেটামিনজাতীয় মাদক বড়ি জব্দ করা হয়েছে ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৫১টি। অর্থাৎ এক বছরে জব্দের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৯০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
তবে অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও ইয়াবার সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
মিয়ানমারের দুর্গম সীমান্তবর্তী জঙ্গলে থাকা বিভিন্ন উৎপাদনকেন্দ্র থেকে মাদক কারবারিরা এখনো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা তৈরি করছে। নিরবচ্ছিন্নভাবে উৎপাদন চলতে থাকায় বাংলাদেশের বাজারে এর সরবরাহ বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ফলে ইয়াবার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান কিছুটা সাফল্য আনলেও সীমান্তপথে সরবরাহ, সস্তা দাম, কালোবাজার এবং মাদকের প্রতি মানুষের নির্ভরতা মিলিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা নিয়ন্ত্রণ এখনো দীর্ঘমেয়াদি ও কঠিন লড়াই হয়ে আছে।
সূত্র-দ্য উইক
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au