১৩৯ বছরের ইতিহাস বদলে দেওয়ার হাতছানি বাংলাদেশের সামনে
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয় তো দূরের কথা, সেখানে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোই একসময় বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ছিল প্রায় অসম্ভব স্বপ্ন। অথচ সেই অসম্ভবকে…
মেলবোর্ন, ২০ আগষ্ট: সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার ঘটনায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের নতুন মামলা করার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ)। একই সঙ্গে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং সংবাদ পরিবেশনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
১৮ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে CPJ এ আহ্বান জানায়।
CPJ-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) সোমবার কারা কর্তৃপক্ষকে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে আগামী ২৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। ২০২৪ সাল থেকে পৃথক মামলায় তারা কারাগারে রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের দমনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে এই তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে সাংবাদিকরা উসকানিমূলক প্রশ্ন করেছিলেন। ওই প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং পরবর্তী সময়ে তাদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয় বলে মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে।
CPJ-এর এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, শুধু একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার কারণে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়’।
তিনি বলেন, সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট বা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, কিন্তু সেটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সাংবাদিকতার সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
কুনাল মজুমদার আরও বলেন, তিন সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে।
মোজাম্মেল বাবু ও রূপার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
মোজাম্মেল বাবু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তর টিভির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান সম্পাদক। একই চ্যানেলের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা।
চলতি বছরের মে মাসে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম কর্মীদের ওপর ২০১৩ সালের নিরাপত্তা অভিযানের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা পৃথক একটি মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই মামলায় গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনা ও আরও ৩৯ জনের সঙ্গে মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার নামও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বেসরকারি দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন। সাংবাদিকতার কারণে প্রতিশোধমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে CPJ।
দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা
CPJ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মামলায় সাংবাদিকরা দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে।
১৯৭৩ সালের একটি আইনের অধীনে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। তবে নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য কী ধরনের সাজা হবে, সে বিষয়ে আইনে বিস্তারিত সাজা নির্দেশিকা না থাকায় ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে CPJ।
ট্রাইব্যুনাল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ হাসিনার সরকার রাজনৈতিক বিরোধীদের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনাল ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। পরবর্তী সময়ে আইনেও সংশোধন আনা হয়। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচার পরিচালনার সুযোগ তৈরি করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়েছে।
এদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নতুন মামলার বিষয়ে বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় ও প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ই-মেইলে মন্তব্য চেয়েছিল CPJ। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সূত্র-কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ)
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au