রাষ্ট্রপতির শপথ আজ সন্ধ্যায়, প্রস্তুত বঙ্গভবনের দরবার হল
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে…
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: ভারতের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ এলাকায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে নিজের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে দাবি করেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। তাঁর মতে, বিশেষ করে যেসব এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত ইন্টারনেট অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি, সেসব অঞ্চলের মানুষের জন্য স্টারলিংক কার্যকর হতে পারে।
শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি পোস্ট পুনরায় শেয়ার করেন ইলন মাস্ক। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, ভারতে বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থাকলেও এখনো দেশটির ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রামে কোনো চতুর্থ প্রজন্মের বা ফোরজি মোবাইল সংযোগ নেই। ভারতের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই সংযোগ ঘাটতির বিষয়টিও পোস্টটিতে তুলে ধরা হয়।
পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে ইলন মাস্ক লেখেন, স্টারলিংক ভারতের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের সহায়তা করবে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করায় যেখানে ফাইবার অপটিক কেবল বা প্রচলিত টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপন কঠিন, সেখানেও স্টারলিংকের মাধ্যমে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ভারতের অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো ইন্টারনেটের গতি কম অথবা নির্ভরযোগ্য সংযোগ নেই। অথচ শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ঘরে বসে কাজের মতো নানা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকার মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজনও বাড়ছে।
ভারতের গ্রামীণ অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড সংযোগ সম্প্রসারণে দেশটির ‘ভারতনেট’ প্রকল্পও কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় ৮ লাখ ৫০ হাজার রুট-কিলোমিটারের বেশি অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হয়েছে বলে পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ৮০ হাজার ৪৭২টি সচল গ্রাম পঞ্চায়েত পয়েন্ট অব প্রেজেন্সের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
তবে ভারতে স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হতে এখনো কিছু প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি টেলিকম লাইসেন্স পেলেও বাণিজ্যিকভাবে ব্রডব্যান্ড সেবা চালুর আগে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের প্রয়োজন রয়েছে।
স্টারলিংকের ভারতে প্রবেশ নিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড বা বিএসএনএলসহ অন্যান্য টেলিকম প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় টেলিকম প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্রশেখর সম্প্রতি বলেছেন, ভারতে স্টারলিংকের গ্রাহকসংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ লাখের মধ্যে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ২০০ মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড পর্যন্ত ইন্টারনেট সুবিধা দেবে, ফলে প্রচলিত টেলিকম সেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
স্টারলিংকের অন্যতম সুবিধা হলো, এর জন্য প্রচলিত ফাইবার কেবলভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় না। ফলে পাহাড়ি, দ্বীপাঞ্চল কিংবা দুর্গম গ্রামেও তুলনামূলক সহজে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্যাটেলাইটভিত্তিক সংযোগ সচল রাখার সুযোগ থাকে।
তবে স্টারলিংকের সেবার খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এর ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে স্টারলিংকের সেবাদানের সক্ষমতাও সীমিত। ফলে ভারতে শুরুতেই বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে এই সেবার আওতায় আনা সম্ভব নাও হতে পারে।
বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে বর্তমানে স্টারলিংকের সেবা চালু রয়েছে। ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভুটানেও এই সেবা চালু হয়েছে। বিভিন্ন দেশে স্টারলিংকের মাসিক খরচ আলাদা। ভারতে সেবাটি চালু হলে মাসে প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার রুপি খরচ হতে পারে বলে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে ভারতে স্টারলিংকের সেবা কবে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে এবং গ্রামীণ এলাকার কত মানুষ এতে যুক্ত হতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সুত্রঃ এক্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au