হাসপাতালে পরীক্ষা শেষে আবারও কারাগারে ইমরান খান
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবারও কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে…
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির একজন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের আলিমুজ্জামান সাজু। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে কয়েক দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় স্বজনেরা জানতে পারেন, কলকাতার একটি হোটেলে আগুনে মারা গেছেন সাজু। এরপর থেকেই তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা।
শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। বড় ভাই সাহেব সরদার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করে মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছিলেন। ভাইয়ের মরদেহের অপেক্ষায় থাকা সাহেব সরদার বলেন, দূরে বসে এখন তাঁর মরদেহ পাওয়ার অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। কবে মরদেহ হাতে পাবেন, সেই অপেক্ষাতেই রয়েছেন তিনি।
সাজুর ছোটবেলার বন্ধু ও সহপাঠী রফিকুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে কলকাতায় গিয়ে সাজুর মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা। দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।
কলকাতার ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশের নাগরিক। নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।
উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ওমর ফারুক আকন্দ জানান, মরদেহগুলো বর্তমানে মর্গে রয়েছে। বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য উপহাইকমিশনের একটি অনাপত্তিপত্র বা এনওসি এবং ভারতের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের আরেকটি এনওসি প্রয়োজন। এ জন্য ঘটনাস্থলের থানায় করা সাধারণ ডায়েরির কপিও প্রয়োজন হচ্ছে। সেই কপি হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ শেষ করে মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি জানান, মরদেহগুলো দ্রুত দেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। সব কাগজপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই পরিবারের সদস্যদের জানানো হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে উপহাইকমিশনে জরুরি বৈঠকে শনিবারের মধ্যে মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের হটলাইনে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পেরেছেন, শুক্রবারই মরদেহ হস্তান্তরের চেষ্টা চলছে। তবে কখন মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছাবে, সে বিষয়ে তাঁকে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন সাতক্ষীরার তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারও। শুক্রবার সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, দরজায় তালা ঝুলছে। প্রতিবেশী ও স্বজন তপন সরকার জানান, রেবতীর স্বামী ভবেশ সরকার ঢাকায় এবং তাঁদের দুই সন্তান অনিক ও ত্রিশা ভারতে থাকায় বাড়িটি তালাবদ্ধ রয়েছে।
তপন সরকার জানান, রেবতীর ছেলে অনিক বর্তমানে ভারতের উত্তরাখন্ডে ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তিনি ট্রেনে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, তাঁর মায়ের মরদেহ কলকাতার মর্গে রাখা হয়েছে। অনিক জানিয়েছেন, কোনো আইনি জটিলতা না থাকলে তাঁরা ভারতেই মায়ের সৎকার করতে চান। আইনগত কারণে তা সম্ভব না হলে মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।
বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ওমর ফারুক আকন্দ জানিয়েছেন, রেবতী সরকারের পরিবার চাইলে ভারতে তাঁর সৎকার করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা নেই। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডে পাসপোর্ট পুড়ে বা নষ্ট হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরার জন্য বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের ব্যবস্থাও করা হবে।
‘শিখা ইন’ হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান সাজু রয়েছেন। অন্য পাঁচজনের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার এবং একজন ঢাকার সাভারের বাসিন্দা। অগ্নিকাণ্ডে নিহত দুই ভারতীয় নাগরিক সন্দ্বীপ পাসোয়ান ও যোগ নারায়ণ আগরওয়ালের মরদেহ বৃহস্পতিবার তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au