কলকাতার হোটেলে আগুনে নিহত সাজুর মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনেরা
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির একজন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের আলিমুজ্জামান সাজু। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে কয়েক দিন আগে…
মেলবোর্ন, ২১ আগষ্ট: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আবারও কারাগারে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে চিকিৎসকদের একটি দল তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তাকে সুস্থ ঘোষণা করলে কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, ইমরান খানকে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ এবং একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ কয়েকজন চিকিৎসক পরীক্ষা করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই চিকিৎসা পরীক্ষার সময় তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তথ্যমন্ত্রী।
কারাগারে থাকা অবস্থায় ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে আদালত ইমরান খানকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিল। কয়েক মাস ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। আদালতের নির্দেশের পর মঙ্গলবার রাতে তার বোন আজমা খান কারাগারে গিয়ে ইমরানের সঙ্গে দেখা করেন।
ইমরানের চিকিৎসাকে ঘিরে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়। হাসপাতালের সামনে ও আশপাশের সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়। পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাঁজোয়া যানও মোতায়েন করা হয়েছিল।
এদিকে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সাধারণত তার বিরুদ্ধে দেওয়া বিভিন্ন আদালতের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করে থাকে। তবে এবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা রয়েছে কি না, এ নিয়ে দলটির পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ইমরান খানের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, তিনি চোখের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং কারাগারে প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। গত ফেব্রুয়ারিতে তার এক আইনজীবী দাবি করেছিলেন, কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি আদালত তার স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে। বিচারকেরা বলেছেন, একজন বন্দির জীবন, স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব।
ইমরান খান বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন। তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই হাসপাতালে নেওয়া ও পরে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানোর ঘটনা পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au