সৌদি আরবে রেড অ্যালার্ট
ভারী বৃষ্টি, বজ্রঝড় ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র। সতর্কবার্তায় বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি ও শক্তিশালী ঝোড়ো…
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। তিব্বতের গিরং এলাকায় ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট একটি হ্রদের পানি উপচে পড়তে শুরু করায় উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলোকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হ্রদের পানির উচ্চতা এবং আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন জরুরি প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তের তিব্বত অংশে ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে একটি প্রাকৃতিক জলাধারের মতো হ্রদ তৈরি করে। বৃষ্টির পানি জমে হ্রদটির পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় এখন সেটি উপচে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, হ্রদের বাঁধ বা প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে যেতে পারে। এতে তিব্বতের গিরং বন্দরসহ সীমান্তবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। এ কারণেই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আপাতত উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হ্রদের পানির উচ্চতা আরও বাড়তে পারে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের দিকে পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে নতুন করে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নেপালে মৃতের সংখ্যা ৪৬৯ জনে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংস হয়ে যাওয়া সড়ক ও সেতু এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ শুরু থেকেই কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ড্রোন, তাপ শনাক্তকারী প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছে উদ্ধারকারী দল। তবে নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় এসব অভিযান আপাতত সীমিত করা হয়েছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং তিব্বতের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারক করেছেন। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এরই মধ্যে শত শত চীনা ও বিদেশি নাগরিককে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নেপালেও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন কোনো বিপর্যয় এড়াতে হ্রদের পানির উচ্চতা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী উদ্ধার অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au