দ্বিতীয় দফা বন্যার শঙ্কায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে উদ্ধারকাজ স্থগিত চীনের
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। তিব্বতের গিরং এলাকায়…
চাঁদপুর শহরের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস, তার স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে প্রিয়ম ও রুপম দাসের নিখোঁজ রহস্যের অবসান হয়েছে। কয়েক দিন আত্মগোপনে থাকার পর শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রামের পটিয়া ও ফটিকছড়ি এলাকা থেকে পিন্টু দাসসহ পরিবারের চার সদস্যকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, তারা নিজেদের ইচ্ছাতেই আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্ত করার পর শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া ও ফটিকছড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক গাজী কালামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তাদের চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট থেকে পিন্টু দাসের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। একই সময়ে চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা সড়কের আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় থাকা তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘এস কে শিল্পালয়’ও বন্ধ হয়ে যায়। পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই ছেলের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এলাকায় তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
তবে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছিলেন, পিন্টু দাস ও তার পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হননি, বরং নিজেদের ইচ্ছায় আত্মগোপনে গিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে থানায় কোনো নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিন্টু দাস দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে ছিলেন। বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার ব্যবসার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, অনেকের স্বর্ণ বন্ধক নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। পাশাপাশি ব্যবসার জন্য বিভিন্ন সমিতি থেকেও ঋণ নিয়েছিলেন। এসব দেনা-পাওনা ও ঋণের চাপের কারণে তিনি পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিন্টু দাসের এক আত্মীয় উপমা দে জানান, তিনি স্ত্রী রিমি ও দুই ছেলে প্রিয়ম এবং রুপমকে নিয়ে চাঁদপুর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিভিন্ন কারণে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
চাঁদপুর জেলা জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দারও জানিয়েছেন, পিন্টু দাসের ঋণ ছিল এবং টাকা-পয়সা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি আত্মগোপনে গিয়েছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
পিন্টুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘এস কে শিল্পালয়’ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা রয়েছে। কয়েক দফা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্থান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ তিনি আখন্দ মার্কেটের নিচতলায় দোকান নেন। মার্কেটের মালিক মফিজ উদ্দিন সরকার জানান, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে পিন্টু দাস দোকানটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তার কাছে কয়েক মাসের দোকান ভাড়াও বকেয়া রয়েছে।
তবে সপরিবারে আত্মগোপনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক বিরোধ, ঋণ বা দেনা-পাওনার চাপের কারণে তারা আত্মগোপনে গিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উদ্ধার করার পর পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পিন্টু দাস চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাসিন্দা। কুমিল্লা ও মুদাফরগঞ্জ এলাকায় তার আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। বর্তমানে পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করছে এবং পিন্টু দাসের ব্যবসায়িক লেনদেন ও তার কাছে স্বর্ণ বন্ধক রাখা ব্যক্তিদের অভিযোগও যাচাই করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au