নেপালে বন্যায় নিহত ৫৭৯, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।…
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের স্রোতে ভেসে উত্তরপ্রদেশে চলে এসেছে এক পাল বুনো হাতি। নদী থেকে উঠে আসার জন্য হাতিগুলোকে প্রাণপণ চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। এমন দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও। ভিডিওটি ভাইরাল হলেও এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশের দাবি, ভিডিওটি নেপালের বন্যার নয়, অন্য কোনো ঘটনার।
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই হাতির একটি দলের ভিডিও ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকটি হাতি প্রবল স্রোতের পানিতে আটকে পড়েছে। স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে গিয়ে নিরাপদে ওঠার চেষ্টা করছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, নেপালের বন্যার পানিতে ভেসে হাতিগুলো ভারতের উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার কৈলাশপুরী ব্যারেজ এলাকায় চলে এসেছে।
ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, নেপাল থেকে ভেসে আসা চার-পাঁচটি হাতি ওই এলাকায় আটকা পড়েছে। উদ্ধারকারী দল হাতিগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ভিডিওটি নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনদের অনেকে। তাঁদের দাবি, নেপালের হড়পা বানের সঙ্গে ভিডিওটির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি অন্য কোনো সময়ের ও অন্য কোনো স্থানের ঘটনা। নেপাল থেকে বন্যার পানিতে ভেসে হাতির পাল উত্তরপ্রদেশে চলে এসেছে, এমন কোনো ঘটনার নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বুধবার ভয়াবহ হড়পা বানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার পর এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়।
প্রবল স্রোত ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও শহরগুলোতে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র। নেপাল ও তিব্বতের হিমালয়-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এই দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, বন্যায় অন্তত ৩০০ জন নিহত হয়েছেন। ২৯১ জন বিদেশিসহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে ১৪১ জন ভারতীয়, যাঁদের মধ্যে ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়।
বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় কাদা, পানি ও ধ্বংসস্তূপের ভয়াবহ স্রোত নেমে আসে। এতে জনবসতি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হাতির দলটির ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকটি হাতি কোমরসমান পানির মধ্যে আটকে আছে। স্রোতের চাপে টিকে থাকার চেষ্টা করছে তারা। কোনো কোনো হাতিকে স্রোতের বিপরীতে এগিয়ে নিরাপদ জায়গায় ওঠার চেষ্টা করতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি ‘এলবুনি’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দেখে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হাতিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে মন্তব্য করেন।
তবে একই সঙ্গে ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেন, নেপালের হড়পা বানে হাতির পাল ভেসে উত্তরপ্রদেশে চলে আসার ঘটনাটি সত্য নয়। পুরোনো বা অন্য কোনো ঘটনার ভিডিওকে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ নিয়ে ওই এক্স ব্যবহারকারীর সমালোচনাও শুরু হয়। ভুয়ো তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে অনেকে তাঁর নিন্দা করেন। পরে চাপের মুখে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
ফলে ভিডিওটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, হাতিগুলো কি সত্যিই নেপালের হড়পা বানে ভেসে ভারতে এসেছিল, নাকি অন্য কোনো ঘটনার ভিডিওকে সাম্প্রতিক বন্যার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে? নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া ভিডিওটির দাবিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
সূত্র- আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au