নেপালে বন্যায় নিহত ৫৭৯, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৯২৪ জন। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক।…
ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়া প্রতি মাসে যত সেনা হারাচ্ছে, নতুন নিয়োগ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রুশ বাহিনী মাসে গড়ে প্রায় ৩৬ হাজার সেনা হারাচ্ছে। বিপরীতে নতুন করে নিয়োগ পাচ্ছে ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা। ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৬ হাজার সেনার ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-কে এক পশ্চিমা কর্মকর্তা বলেন, রুশ বাহিনীতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার নতুন সেনা নিয়োগ পাচ্ছে। সেই হিসাবে মাসে ৩০ থেকে ৩১ হাজার সেনা যোগ দিচ্ছে। কিন্তু ইউক্রেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে রাশিয়ার মাসিক সেনা ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ৩৬ হাজার।
ওই কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাটতি চলতে থাকায় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন বলে দাবি করেন তিনি।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের একজনের দাবি, সেনা ঘাটতি পূরণে রাশিয়ার হাতে বিকল্প সীমিত হয়ে আসায় ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো ও নাগরিকদের ওপর হামলার মাত্রা বাড়তে পারে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরু থেকে রাশিয়া ইউক্রেনে ৩৬০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগাচ্ছে মস্কো।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আগামী শীতকে সামনে রেখে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেশটির মানুষের মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করতে পারে রাশিয়া।
তাঁর মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আরও বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়োগ প্রয়োজন হলেও পুতিনের হাতে সে বিষয়ে খুব বেশি বিকল্প নেই।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাশিয়ায় নতুন করে বড় আকারের সেনা সমাবেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
২০২২ সালের শরতে রাশিয়ায় সর্বশেষ বড় ধরনের সেনা সমাবেশের পর প্রায় ১০ লাখ রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন কর্মকর্তারা। তাঁদের অনেকেই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবী। পরে তাঁদের একটি অংশ দেশে ফিরে এলেও ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা দেশত্যাগীদের অর্ধেকেরও কম ছিল বলে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন।
এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, দুই ক্ষেত্রেই পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও সহায়তা চেয়ে আসছে কিয়েভ।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তাঁর প্রথম বিদেশ সফরে কিয়েভ যান। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
বার্নহ্যাম আগামী মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইউক্রেনকে রুশ হামলা থেকে সুরক্ষায় আরও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া একাধিকবার পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের ভেতরে এবং ইউক্রেনের বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনাগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মস্কো।
তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন, রাশিয়ার হুমকিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ না থাকলেও পুতিন ন্যাটোর সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চান না।
২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির পরও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার প্রচেষ্টা এবং রাশিয়ার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত আপত্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au