ব্যাগ ধরে টান ছিনতাইকারীর, রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু
ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে এক শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে। নিহত মোসা. রনজিনা পারভীন বগুড়ার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক…
ভয়াবহ বন্যার পর টানা বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশার কারণে নেপালে শনিবার সাময়িকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে টানেল থেকে মানুষ উদ্ধার, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং ডিএনএ পরীক্ষার মতো বিশেষায়িত কাজে বিদেশি কারিগরি সহায়তা চেয়েছে দেশটি।
বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। পাহাড়ি নদীগুলো দিয়ে নেমে আসা পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে ভবন, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায়। এখন পর্যন্ত নেপালে অন্তত ৬২৬ জন এবং চীনের তিব্বতে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এখনো প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে নেপালে নিখোঁজ ২ হাজার ৪২৬ জন এবং তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ অন্তত ৫৫৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের অনেকেই ভারতের হিন্দু তীর্থযাত্রী।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের রাসুয়া জেলার শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা নরেন্দ্র পারিয়ার রয়টার্সকে বলেন, বৃষ্টি ও কুয়াশার কারণে শনিবার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া তীর্থযাত্রীদের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌঁছে দিতে এখন স্থলপথে পরিবহনের ব্যবস্থা করাই প্রধান অগ্রাধিকার।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে যেসব ক্ষেত্রে নেপালের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান নেই, সেসব কাজে বিদেশি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, টানেলের ভেতরে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়া এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা চালু করা, ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও যোগাযোগলাইন পুনরুদ্ধার, মরদেহ শনাক্তকরণ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের জন্য বিশেষজ্ঞ সহায়তা প্রয়োজন।
রয়টার্সকে শুক্রবার রাতে খানাল বলেন, ‘যেসব ক্ষেত্রে আমাদের পর্যাপ্ত দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান নেই, সেসব বিশেষায়িত সেবা ও কারিগরি সহায়তার জন্য আমরা ইতোমধ্যে অনুরোধ জানিয়েছি।’
বন্যার পর নেপাল-চীন সীমান্তে সৃষ্ট একটি হ্রদ লেহন্দে খোলা ও ত্রিশূলী নদীতে পানি ঢালতে শুরু করলে শুক্রবারও কিছু সময়ের জন্য উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
বন্যাকবলিত এলাকার উজানে থাকা দুটি হ্রদের ওপর নজর রাখছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, দুটি হ্রদের পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত নতুন করে বন্যার ঝুঁকি থাকবে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, একটি হ্রদের আয়তন কমছে। তবে চীনের একজন সরকারি ভূ-দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, হ্রদটি এখনো অস্থিতিশীল হতে পারে। ওই এলাকায় ছড়িয়ে থাকা আরও শতাধিক হিমবাহজাত হ্রদও নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
নেপালে ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে ভারত। দেশটি তিনটি বিমানে প্রায় ৬০ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কম্বল, ওষুধ, খাবার ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট।
এ ছাড়া টানেলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে একটি বিশেষ দল এবং একটি মেডিকেল টিম পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ভারতের। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, প্রিফ্যাব্রিকেটেড সেতু ও কারিগরি দল পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে নয়াদিল্লি।
অন্যদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। তবে চীন কী ধরনের সহায়তা নেপালে পাঠাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর নেপালের অবকাঠামো পুনর্গঠনে ৪০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, এটি প্রাথমিক হিসাব। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণের কাজ এখনো চলছে।
এদিকে চীনের কর্তৃপক্ষও বন্যার পর নিখোঁজ ৫০০ জনের বেশি মানুষকে খুঁজে বের করতে তৎপরতা চালাচ্ছে।
শুক্রবার উদ্ধারকারীরা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতের গিরং সীমান্ত ক্রসিং এলাকায় পৌঁছান। সড়ক ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পাহাড় ও উপত্যকা পেরিয়ে দড়ি ব্যবহার করে বন ও খাড়া পাহাড়ি এলাকায় তাদের এগোতে হয়েছে।
বন্যার সময় ওই সীমান্ত ক্রসিংয়ের নজরদারি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিপুল পানির স্রোত ও ধ্বংসাবশেষ মুহূর্তের মধ্যে ভবনগুলোকে গ্রাস করছে। এ সময় মানুষ প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন।
সূত্র- রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au