রুশ হামলার পর কিয়েভের বাসিন্দা ‘আমরা বেঁচে আছি, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ’
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলার পর একটি গোলাবারুদ গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের ওই হামলায় মিলা গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন…
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ বাস্তবায়নের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকে তিন দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় তিন দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে চুক্তিটিকে ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধানরা অংশ নেবেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং আন্তঃকার্যক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা, যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং নতুন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করাই এই সহযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য।
বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই প্রতিরক্ষা জোটকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা, ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে।
তিন দেশের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতাও এই জোটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং দেশটির রয়েছে জোটটির অন্যতম বৃহৎ সামরিক বাহিনী। পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ, আর সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ।
তবে চুক্তিটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং কোনো সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে তিন দেশ কীভাবে সমন্বিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইস্তাম্বুলের প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ত্রিপক্ষীয় এই প্রতিরক্ষা কাঠামো বাস্তবায়ন হলে মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও কৌশলগত সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে। ইস্তাম্বুলের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সেই সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রাথমিক ধাপ শুরু হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au