নেপালে ষষ্ঠ দিনেও উদ্ধার অভিযান, মৃত প্রায় ৮০০
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর ষষ্ঠ দিনেও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮০০ জনে পৌঁছেছে।…
রংপুরে একই হিন্দু পরিবারের চারজনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য কারাগারের ভেতরেই মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি ও মবের আশঙ্কায় তাঁদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বাইরে না এনে রোববার (৩০ আগস্ট) কারাগারের ভেতরেই নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশ।
রোববার দুপুর দেড়টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। তাদের সঙ্গে ছিলেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী। পরে কারাগারের ভেতরে দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গবেষণাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মহানগর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর আসামিদের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় তাঁদের কারাগার থেকে বাইরে না এনে সেখানেই মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আশরাফ বলেন, কারাগারের ভেতর থেকেই দুই আসামির নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ফলাফল পাওয়া যাবে।
রংপুর মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, আসামিদের কারাগার থেকে বাইরে আনা হলে তাঁদের ওপর হামলা বা মবের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কারাগারের ভেতরেই ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়। মূলত আসামিরা মাদকাসক্ত ছিলেন কি না, তা যাচাই করতেই এই পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে একই এলাকার কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস ও বিনয় দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর দুজনই আদালতে স্বেচ্ছায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের আগে আসামিরা মাদকদ্রব্য সেবন করেছিলেন। সেই দাবির সত্যতা যাচাই করতেই আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁদের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। বর্তমানে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au