আয়ুশের গৃহশিক্ষিকা ইভা রহমান কোথায়?
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে উঠেছে আয়ুশ চক্রবর্তীর গৃহশিক্ষিকা ইভা রহমানকে ঘিরে।…
ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের পৃথক অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা দুই কর্মকর্তা হলেন এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক এম এস কে শাহীন ও যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির তাঁদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে করা পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার দুই কর্মকর্তার বিদেশযাত্রা বন্ধের আবেদন দুটি আদালতে দাখিল করেন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে দুদক উল্লেখ করেছে, অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা বর্তমানে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান বা তদন্ত চলাকালে তাঁরা বিদেশে পালিয়ে গেলে তাঁদের মাধ্যমে পাচার করা বা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে তাঁদের বিদেশে অবস্থান তদন্ত কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ কারণে অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও কার্যকর অনুসন্ধানের স্বার্থে দুই কর্মকর্তার বিদেশ গমন বন্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, এনএসআইয়ের অতিরিক্ত পরিচালক এম এস কে শাহীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, চাঁদাবাজি এবং পদ ও ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ বর্তমানে দুদকে অনুসন্ধানাধীন।
অন্যদিকে এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক বদরুল আহমেদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তদন্ত চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সঙ্গে দেশ-বিদেশে অর্থ স্থানান্তর বা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের ব্যবস্থাপনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছে দুদক।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নম্বর ৮২৪/২০২১ মামলায় ২০২১ সালের ১৬ মার্চ দেওয়া রায়ের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে।
ওই নির্দেশনার আলোকে আদালতে আবেদন করার জন্য দুদকের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্বানুমতি নেওয়া হয়। এরপর প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সোমবার আদালতে পৃথক আবেদন দাখিল করা হয়।
আদালত দুদকের আবেদনের সঙ্গে দাখিল করা নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পর্যালোচনা করে তা মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আদালতের এই আদেশ এখনো দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার অর্থ নয়। দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় এবং অবৈধ সম্পদ বা অর্থ পাচারের বিষয়টি প্রমাণিত হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরনও আলাদা। এম এস কে শাহীনের বিরুদ্ধে মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, চাঁদাবাজি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। আর বদরুল আহমেদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে।
দুদকের আশঙ্কা, তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তরা বিদেশে চলে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত জটিল হয়ে পড়তে পারে এবং অবৈধভাবে অর্জিত বা পাচার করা অর্থ উদ্ধারের সুযোগও কমে যেতে পারে। এ কারণেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের বিদেশযাত্রা বন্ধ রাখার আবেদন করা হয়েছিল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au