রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে উঠেছে আয়ুশ চক্রবর্তীর গৃহশিক্ষিকা ইভা রহমানকে ঘিরে। হত্যাকাণ্ডের পর ২২ আগস্ট থেকে তাঁকে আর এলাকায় দেখা যাচ্ছে না বলে স্থানীয় ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। লাশ উদ্ধারের পর তিনি দেখতেও আসেননি বলে জানা গেছে। তিনি প্রায় দেড় বছর আয়ুশকে বাসায় এসে পড়াতেন।
তিনি কোথায় আছেন, কেন আত্মগোপনে রয়েছেন এবং হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি পরিবারের সঙ্গে তাঁর কী ধরনের যোগাযোগ ছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র।
তবে ইভা রহমানের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। বরং তাঁর অবস্থান ও গণপতি পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পরই কেন ইভাকে খোঁজা হচ্ছে
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের একটি বর্ণনাও এসেছে।
কিন্তু তদন্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার দুই আসামির জবানবন্দির ওপর নির্ভর করলে হত্যাকাণ্ডের পুরো নেপথ্য জানা নাও যেতে পারে। হত্যার আগে পরিবারটি কোনো হুমকি পেয়েছিল কি না, আগামীকে কেউ হয়রানি করছিল কি না, গণপতির বাড়ি নির্মাণ নিয়ে কারও সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না এবং পরিবারটির সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কি না, সেসব প্রশ্নের উত্তরও খুঁজে দেখা দরকার।
এই জায়গাতেই সামনে আসছে ইভা রহমানের নাম। ইভা ছিলেন গণপতি পরিবারের প্রতিবেশী। তিনি গণপতির ছেলে আয়ুশকে পড়াতেন এবং নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলিতা চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, গণপতি পরিবারের ভেতরের অনেক বিষয় সম্পর্কে ইভার জানাশোনা থাকার সম্ভাবনা ছিল। আগামী কারও কাছ থেকে হুমকি বা হয়রানির শিকার হচ্ছিলেন কি না, পরিবারটি কারও কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিল কি না, বাড়ি নির্মাণ নিয়ে কোনো বিরোধ চলছিল কি না, এসব বিষয়ে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কিছু জানতেন কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
২২ আগস্টের পর কোথায় ইভা?
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাছুয়াপাড়ার স্থানীয়রা ইভা রহমানকে ‘ইভা ভাবি’ নামে চিনতেন। ২২ আগস্ট থেকে তাঁকে আর পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে।
এই নিখোঁজ বা আত্মগোপনে থাকার বিষয়টিই এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি করছে।
চার হত্যাকাণ্ডের পর একজন ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা গৃহশিক্ষিকার হঠাৎ অনুপস্থিতির কারণ কী? তিনি নিজের নিরাপত্তার কারণে সরে গেছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে আত্মগোপনে আছেন? তাঁকে কেউ কোথাও যেতে বলেছে কি না? অথবা হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে এমন কোনো ঘটনা তিনি দেখেছেন বা জেনেছেন কি না, যা তদন্তে নতুন দিক খুলে দিতে পারে?
এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে ইভাকে খুঁজে বের করা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার খবরে স্বজনদের আহাজারি। ছবিঃ সংগৃহীত
আগামীকে হয়রানির বিষয়টি ইভা জানতেন?
তদন্তে উঠে আসা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগামী চক্রবর্তীর ওপর কথিত হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ।
স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেরিল সুমনের নেতৃত্বাধীন একটি কথিত চক্র আগামীকে বিভিন্ন সময় হয়রানি ও হুমকি দিত। ওই চক্রে পারভেজ, পাভেল, মোমিন মিয়া, আবু হুমায়রাসহ আরও কয়েকজনের নাম এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের ছেলে আশফাক সিফাতের ইন্ধনে এই হয়রানি করা হতো।
এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আগামী তাঁর মাকে বিষয়টি পুলিশকে জানাতে বলেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তিনি তাঁর প্রতিবেশী ও বন্ধু প্রথা মণ্ডলকেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার কয়েক দিন আগে আগামী ফেসবুক মেসেঞ্জারে প্রথাকে জানতে চেয়েছিলেন, থানায় সাধারণ ডায়েরি বা মামলা করলে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে কি না। অর্থাৎ, মৃত্যুর আগে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং পুলিশের সহায়তা নেওয়ার কথা ভাবছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ইভা কতটা জানতেন?
ইভা ও প্রীতিলিতা পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামীর ওপর কথিত হয়রানির বিষয়টি নিয়ে প্রীতিলিতা চক্রবর্তী ও ইভা রহমান গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
সনাতন বিষয়টি শোনার পর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং প্রীতিলিতা ও ইভাকে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদের কাছে সহায়তা চাওয়ার জন্য পাঠান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এই তথ্য সত্য হলে হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশের কাছে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যায়।
তাহলে পুলিশ কমিশনারের কাছে কী অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল? আগামীকে কারা হুমকি দিচ্ছিল, সে বিষয়ে কি কোনো নাম বলা হয়েছিল? কোনো সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ হয়েছিল কি না? পুলিশ তখন কী ব্যবস্থা নিয়েছিল?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে ইভার সম্পর্ক নিয়ে যে অভিযোগ
ইভা রহমানের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথিত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও।
প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, প্রীতিলিতা ও ইভার পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। এরপর ইভা ও আবদুল মাবুদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এমনকি স্থানীয়দের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুলিশ কমিশনারকে ইভা রহমানের সঙ্গে একাধিকবার গণপতি পরিবারের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
তবে এই অভিযোগের কোনো স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি এবং আবদুল মাবুদ ও ইভা রহমানের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
এই কারণে বিষয়টি তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন, অভিযোগ হিসেবে এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
সনাতন চক্রবর্তীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী নিয়মিত মাছুয়াপাড়ায় যাতায়াত করতেন। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় পুরোহিত ধীমান ঠাকুর এবং তাঁর ছেলে প্রণ ভট্টাচার্য পরণের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইভা রহমানের মাধ্যমে প্রীতিলিতার সঙ্গে সনাতনের যোগাযোগ এবং সেখান থেকে পুলিশ কমিশনারের কাছে যাওয়ার যে দাবি প্রতিবেদনে এসেছে, সেটিও তদন্তের অংশ হওয়া প্রয়োজন।
অর্থাৎ, হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি পরিবার কার কাছে নিরাপত্তা চেয়েছিল এবং পুলিশের কোন কর্মকর্তা বিষয়টি জানতেন, তা নির্ধারণ করা গেলে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিষ্কার হতে পারে।
ইভা কি আগামীর হুমকির তথ্য জানতেন?
ইভাকে খুঁজে পাওয়ার গুরুত্বের আরেকটি কারণ হলো আগামীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কথিত হয়রানির বিষয়ে আগামী তাঁর মা প্রীতিলিতাকে জানিয়েছিলেন। প্রীতিলিতা বিষয়টি ইভা রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এরপর তাঁরা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
যদি এই তথ্যগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে ইভা হত্যাকাণ্ডের আগের পরিস্থিতির একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারেন।
তিনি বলতে পারেন, আগামীকে কারা হুমকি দিত, কী ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল, পরিবারটি কতটা আতঙ্কে ছিল, পুলিশকে কখন বিষয়টি জানানো হয়েছিল এবং পুলিশের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছিল।
এই তথ্যগুলো শুধু হত্যার নেপথ্য নয়, হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে আগে কোনো সুযোগ ছিল কি না, সেটিও বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
ইভাকে খুঁজে পাওয়া কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইভা রহমানকে খুঁজে পাওয়া মানেই তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, এমন কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। বরং তাঁর গুরুত্ব মূলত একজন ঘনিষ্ঠ গৃহশিক্ষিকা, প্রতিবেশী এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা ব্যক্তি হিসেবে।
তিনি যদি সত্যিই ২২ আগস্টের পর থেকে নিখোঁজ বা আত্মগোপনে থাকেন, তাহলে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা এবং তিনি স্বেচ্ছায় আড়ালে আছেন কি না, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
কারণ চারজন মানুষের হত্যাকাণ্ডের আগে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল কি না, সেই তথ্যের একটি অংশ হয়তো ইভার কাছে রয়েছে। আবার তাঁর কাছে এমন কোনো তথ্য নাও থাকতে পারে, যা মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। সেটিও নিশ্চিত হওয়ার জন্যই তাঁকে খুঁজে পাওয়া এবং বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, পুলিশ যদি আগেই জানত যে গণপতি পরিবার বা আগামী হুমকির মুখে ছিলেন, তাহলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
চার খুনের তদন্তে এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দরকার
গণপতি পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির জবানবন্দি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু তার বাইরেও যদি হুমকি, চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কোনো পূর্বপরিকল্পনার অভিযোগ থাকে, তাহলে সেগুলোও তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে ইভা রহমানকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি পরিবার কী ধরনের হুমকির মধ্যে ছিল?
আগামীকে কারা হয়রানি করছিল এবং কেন?
আগামীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রীতিলিতা ও ইভা পুলিশের কাছে কী জানিয়েছিলেন?
পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদের সঙ্গে ইভার যোগাযোগের প্রকৃতি কী ছিল?
ইভা ২২ আগস্টের পর কোথায় গেলেন এবং কেন?
হত্যাকাণ্ডের আগে বা পরে ইভার সঙ্গে মেরিল সুমন, প্রণ ভট্টাচার্য পরণ, ধীমান ঠাকুর, আশফাক সিফাত কিংবা শামসুজ্জামান সামুর কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না?
হত্যাকাণ্ডের আগে গণপতি পরিবারের বাড়িতে কারা নিয়মিত যাতায়াত করতেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তদন্তে পাওয়া গেলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ আরও পরিষ্কার হতে পারে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
আরও পড়ুন-