দেড় ঘণ্টায় সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ আটক, ‘ম্যানুয়েল সোর্স’-এর তথ্যের উৎস কোথায়?
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে, এত অল্প…
মাদারীপুর সদর উপজেলার একটি মসজিদের ইমামের তালাবদ্ধ থাকার কক্ষে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে মসজিদ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে কক্ষটির টিনের বেড়া ও চালার একাংশ উড়ে যায়। একই সঙ্গে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের মালেক আকনের বাড়ির আল আকসা জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ আকাশ দুই দিন আগে ছুটিতে নিজ বাড়িতে চলে যান। এরপর থেকে মসজিদের পাশে তাঁর থাকার কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। কক্ষটির চাবি মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যের কাছে ছিল বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে আসরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। এর কিছুক্ষণ পরই মসজিদের ইমামের তালাবদ্ধ থাকার কক্ষের ভেতর থেকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষটির ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থার দেখতে পান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিস্ফোরণের তীব্রতায় কক্ষটির টিনের বেড়ার একটি অংশ উড়ে যায়। টিনের চালারও একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রীতে আগুন ধরে যায় এবং সেগুলোর কিছু অংশ পুড়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দার ধারণা, কক্ষটির ভেতরে আগে থেকেই কোনো ধরনের বিস্ফোরক রাখা থাকতে পারে। তবে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, কে বা কারা সেটি সেখানে রেখেছে কিংবা কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একটি মারামারির প্রস্তুতি হিসেবে আকন বংশের লোকজন মসজিদের ভেতরে বোমা রেখে থাকতে পারেন। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাকিম আকন। তিনি বলেন, মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে কে বা কারা বোমা রেখেছে, তা তাঁরা জানেন না। তাঁদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি জানান।
মসজিদ কমিটির সদস্য মালেক আকন বলেন, ইমামের থাকার কক্ষে কে বা কারা বিস্ফোরক রেখেছে, সে বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। নামাজের সময় বিস্ফোরণ ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা নামাজরত অবস্থায় থাকলে যদি বোমাটি বিস্ফোরিত হতো, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারত। আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়েছেন। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
ঘটনার খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ কক্ষটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। কে বা কারা এবং কী কারণে সেখানে বিস্ফোরক রেখেছে, তা তদন্তের পর জানা যাবে। ঘটনাটি নাশকতার কোনো ঘটনা কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত এবং বিস্ফোরণের ধরন পর্যালোচনা করে প্রকৃত কারণ বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিস্ফোরকটি কী ধরনের ছিল এবং কক্ষের ভেতরে সেটি কীভাবে এল, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে মসজিদের ইমামের কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় বিস্ফোরণ ঘটায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি অন্যান্য তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরক কীভাবে এল এবং এর পেছনে কোনো বিরোধ বা নাশকতার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা দ্রুত তদন্ত করে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের ঘটনায় কারও সম্পৃক্ততার অভিযোগকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখছে না পুলিশ। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au