ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরে…
ইউক্রেনকে গোলাবারুদ সরবরাহের জন্য ৭ কোটি ইউরোর বেশি মূল্যের একটি চুক্তি নিয়ে বিতর্কের জেরে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানো পেভকুর পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২২ সাল থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা পেভকুর বুধবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান।
বিতর্কিত ওই চুক্তিতে ভারতের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা ছিল। প্রতিষ্ঠানটির আগে কামানের গোলা সরবরাহের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইউক্রেনের জন্য গোলাবারুদ সংগ্রহে তাদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। পরে গোলাবারুদ সরবরাহে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয় এবং সরবরাহ করা কিছু গোলাবারুদের মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এস্তোনিয়ার জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের একাধিক সমালোচনামূলক প্রতিবেদনের পর চুক্তিটির রাজনৈতিক দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার কথা জানান হানো পেভকুর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এস্তোনিয়ার নিরাপত্তা কোনো একজন ব্যক্তির দায়িত্ব নয়, এটি সবার যৌথ দায়িত্ব। তাই প্রতিরক্ষা খাতের রাজনৈতিক দায় তিনি নিতে চান। উপযুক্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন বলেও জানান তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে। ওই বছর এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র ইতালিতে নিবন্ধিত দাতাসেল এসআরএল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোলাবারুদ কেনার চুক্তি করে। চুক্তির কিছুদিন আগে ভারতের মালিকানাধীন নেকো ডিফেন্স মিউনিশনস দাতাসেলকে কিনে নেয়। ইউক্রেনের জন্য কামানের গোলা সংগ্রহ করাই ছিল চুক্তিটির মূল উদ্দেশ্য।
সে সময় ইউক্রেন তীব্র গোলাবারুদ সংকটে ছিল। এস্তোনিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ইআরআর এবং দেশটির সংবাদপত্র এসতি এক্সপ্রেস ও পোস্টিমিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির অর্থের একটি অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপীয় শান্তি তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছিল। এস্তোনিয়া কয়েক দফায় প্রতিষ্ঠানটিকে অগ্রিম অর্থ দেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথম চুক্তির সময় প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ইউরো এবং একই বছরের অক্টোবরে দ্বিতীয় চুক্তিতে আরও ১ কোটি ইউরোর বেশি অগ্রিম দেওয়া হয়। পরে আরও কয়েকটি চুক্তির মাধ্যমে অগ্রিম অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ইউরোতে পৌঁছে যায়।
চুক্তি অনুযায়ী কয়েক মাসের মধ্যেই ইউক্রেনে গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে সরবরাহ বারবার পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে কিছু গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়। তবে এসতি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সরবরাহ করা গোলাবারুদের কিছু অংশ নির্ধারিত মানের শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
তবে দাতাসেল এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, চুক্তি বাতিলের আগে তারা এস্তোনিয়াকে প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ ইউরো মূল্যের গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে। সরবরাহে দেরি হওয়ার কথা স্বীকার করলেও গোলাবারুদের মান খারাপ ছিল, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে তারা।
দাতাসেলের দাবি, এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে জানানো হয়, বাকি পণ্য আর গ্রহণ করা হবে না। প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি বাতিলের বিরুদ্ধে এস্তোনিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক সালিশেও গড়িয়েছে। দাতাসেলের ভাষ্য, চুক্তি বাতিলের পক্ষে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র যে কারণ দেখিয়েছে, সেগুলো পরস্পরবিরোধী ও যুক্তিহীন।
গত শরতে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র দাতাসেলের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো বাতিল করে এবং আগে দেওয়া অর্থ ফেরত চায়। এরপর বিষয়টি ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে অবস্থিত ইউরোপীয় সালিশ ও মধ্যস্থতা কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এস্তোনিয়া সেখানে প্রায় ৭ কোটি ইউরোর অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে।
এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্রের মহাপরিচালক এলমার ভাহের বলেন, দাতাসেলের সঙ্গে এমন চুক্তি করা উচিত হয়নি। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান আগে কখনো একটি বাড়ি তৈরি না করলে তাকে দিয়ে বাড়ি নির্মাণের কাজ করানোর ক্ষেত্রে যেমন ঝুঁকি থাকে, দাতাসেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি ছিল।
পেভকুরের পদত্যাগের পেছনে এস্তোনিয়ার জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের সমালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতিরক্ষা তহবিল ব্যবস্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে দপ্তরটি একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে। গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতি এবং সামরিক সম্পদের হিসাব সংরক্ষণে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়।
নিরীক্ষা দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ ফেরত পাওয়া না গেলে শেষ পর্যন্ত এস্তোনিয়াকে নিজস্ব বাজেট থেকে প্রায় ৭ কোটি ইউরো পরিশোধ করতে হতে পারে। তবে পেভকুর বলেছেন, একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি সামরিক সরঞ্জাম কেনার চুক্তি দেখভাল করেন না এবং প্রতিটি গোলাবারুদও তিনি নিজে পরীক্ষা করেন না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের বিষয়ে এস্তোনিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইউরোপীয় কমিশন। কমিশনের মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান উইগান্ড বলেন, ইউরোপীয় করদাতাদের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল এর আগে বলেছিলেন, গোলাবারুদ কেনার ঘটনায় হানো পেভকুর ব্যক্তিগতভাবে দোষী, এমন কোনো প্রমাণ তিনি দেখছেন না। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে চুক্তির রাজনৈতিক দায় তার ওপর বর্তাতে পারে বলে স্বীকার করেন তিনি।
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে পেভকুর বলেন, এস্তোনিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে সরকার যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো সঠিক ছিল বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরুর পর এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পেভকুর দাবি করেন, এস্তোনিয়া আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি নিরাপদ। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, ইউক্রেনকে সহায়তা করা মানে এস্তোনিয়ার নিজেদের নিরাপত্তাকেও শক্তিশালী করা।
প্রায় ১২ লাখ মানুষের দেশ এস্তোনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার স্থলসীমান্ত রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের পর এস্তোনিয়াসহ বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডকে তারা সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। এস্তোনিয়া ইউক্রেনের অন্যতম শক্তিশালী ইউরোপীয় সমর্থক এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কিয়েভকে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au