Uncategorized

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

  • 1:06 pm - September 04, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৫২ বার
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে ।ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে। বর্তমানে দুই দেশের মোট দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে, আর বাকি অর্থের পণ্য ভারত বাংলাদেশে রফতানি করে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল বাতেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব তথ্য জানান। একই অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান ভারতের সঙ্গে গত পাঁচ অর্থবছরের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য জানতে লিখিত প্রশ্ন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকারের কোনো পদক্ষেপ রয়েছে কি না, আব্দুল বাতেনের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও চীনের বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। তবে বিষয়টিকে শুধু নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে ঘাটতি হিসেবে না দেখে সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতির আলোকে দেখা প্রয়োজন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেরই আমদানি রফতানির চেয়ে বেশি, আবার অনেক দেশের ক্ষেত্রে রফতানি আমদানির চেয়ে বেশি। তবে পুরো বিশ্বের বাণিজ্য হিসাব বিবেচনা করলে আমদানি ও রফতানির মধ্যে সামগ্রিক ভারসাম্য রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সামগ্রিক রফতানি সক্ষমতা বাড়ানো। এ জন্য চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব খাতে উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সহায়তার পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যেসব খাতের রফতানি সক্ষমতা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেসব খাতকেও প্রয়োজনীয় সহায়তার মাধ্যমে আরও সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের মোট বাণিজ্য প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের রফতানি ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার, আর ভারতের রফতানির পরিমাণ এর চেয়ে অনেক বেশি। ফলে বাণিজ্য ঘাটতিও বেড়েছে।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উভয় দেশেরই কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলেও জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার ভাষ্য, ভারতের দিক থেকে যেমন কিছু বাধা রয়েছে, তেমনি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে অবকাঠামো উন্নয়নে একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিনিধি দলটি। সরকারও এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

ভারত থেকে বেশি আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সরাসরি এসব পণ্য আমদানি করে না। মূলত বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীরাই আমদানি করেন। তারা প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানি করেন। ভৌগোলিক নৈকট্য ও দামের সুবিধার কারণে ভারত বাংলাদেশের জন্য আমদানির একটি বড় উৎস হয়ে উঠেছে।

পাঁচ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি

সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ১১ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

এরপর ঘাটতি কিছুটা কমে ২০২২-২৩ অর্থবছরে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ছিল ৭ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবার বেড়ে ঘাটতি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ঘাটতি আরও বেড়েছে।

সার্কে ভারতের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি ঘাটতি

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সার্কভুক্ত সাত দেশের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি।

ওই অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের রফতানি ছিল ১ হাজার ৭৬৪ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার। বিপরীতে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে ৯ হাজার ৬২৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন ডলার।

একই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। ভুটানের সঙ্গে ঘাটতি ছিল ২৯ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে ১০ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে সার্কভুক্ত নেপাল, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল। নেপালের সঙ্গে উদ্বৃত্ত ছিল ২৯ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার, শ্রীলংকার সঙ্গে ৬ দশমিক ২৫ মিলিয়ন এবং মালদ্বীপের সঙ্গে ২ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার।

সরকারের লক্ষ্য এখন সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা বাড়িয়ে বৈদেশিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো। বিশেষ করে ভারতের মতো বড় বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বাড়াতে নীতি সহায়তা, বিনিয়োগ ও দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এই শাখার আরও খবর

ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরে…

নাইজেরিয়ায় তেল চুরির সময় বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪৩ জনের মৃত্যু

নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় রিভার্স রাজ্যে অবৈধভাবে পেট্রোলিয়াম পণ্য চুরির সময় বিষাক্ত ধোঁয়ায় অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়…

‘নটি বয়’র সফল উৎক্ষেপণে মহাকাশে ভারতের নতুন সাফল্য

ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের মাধ্যমে ‘ইওএস-০৫’ নামে অত্যাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ সফলভাবে…

বিএনপি সরকারের আট মাসে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

নতুন নির্বাচিত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম আট মাসে দেশের মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেছে আওয়ামী লীগ। হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, নারী ও শিশু…

ইন্দোনেশিয়ায় বিনামূল্যের খাবার খেয়ে ১,৭০০ শিক্ষার্থী-শিক্ষক অসুস্থ

ইন্দোনেশিয়ার স্কুলগুলোতে সরকারের বিনামূল্যের খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে তিন দিনে ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মধ্য জাভা প্রদেশের…

মার্কিন অস্ত্রের মজুদ নিয়ে ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে ‘শতভাগ ভুল’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au