ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরে…
ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এসেছে। শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের মাধ্যমে ‘ইওএস-০৫’ নামে অত্যাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ সফলভাবে মহাকাশে পাঠিয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)।
স্থানীয় সময় রাত ২টা ৫৫ মিনিটে উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়। তখন মিশন কন্ট্রোল রুম, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ট্র্যাকিং স্টেশনে ইসরোর প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও সহায়ক কর্মী শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। উৎক্ষেপণের মাত্র ১৯ মিনিট পর, ভোর ৩টা ১৪ মিনিটে মিশন সফল হওয়ার খবর আসে। এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষে ইসরোর বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং এই সাফল্যকে দেশের মহাকাশ অভিযানে ‘আরেকটি বড় লাফ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সফল উৎক্ষেপণের জন্য ইসরোর পুরো দলকে অভিনন্দন জানান।
ইওএস-০৫ উপগ্রহটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, এটি জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে ছবি তুলতে সক্ষম ভারতের প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট। দৃশ্যমান আলো, ইনফ্রারেড, মাল্টি-স্পেকট্রাল এবং হাইপারস্পেকট্রালসহ বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উন্নত মানের ছবি সংগ্রহ করতে পারবে উপগ্রহটি। ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমি, পরিবেশ ও অন্যান্য পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে এর তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই উৎক্ষেপণ ইসরোর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগে পরপর দুটি উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য পিএসএলভি রকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২৫ সালে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পিএসএলভির ব্যর্থতার পর ইসরোকে বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘ তদন্ত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বর্তমানে পিএসএলভি বহরের উৎক্ষেপণ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে এবং প্রকৌশলীরা বিভিন্ন পরীক্ষা ও সংশোধনমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবার সেই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেয় জিএসএলভি এমকে-২। ইসরো মজা করে এই রকেটটির নাম দিয়েছে ‘নটি বয়’। তবে নামের আড়ালে রকেটটির অতীত রেকর্ড বেশ চ্যালেঞ্জিং। এখন পর্যন্ত ১৯টি উৎক্ষেপণের মধ্যে ছয়টি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এবারের উৎক্ষেপণ নিয়ে ইসরোর বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মধ্যে বাড়তি চাপ ছিল।
তবে সেই চাপ সামলে ‘নটি বয়’ এবার সফল হয়েছে। শ্রীহরিকোটা থেকে এটি ছিল কোনো বড় রকেটের ১০৭তম উৎক্ষেপণ। আগের ব্যর্থতার পর এই সাফল্য ইসরোর জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তি ও আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au