ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…
সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলে বলা হয়েছে, পিতা-মাতা কিংবা পিতামহ-মাতামহ তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে।
এ ছাড়া দাতা জীবিত থাকা অবস্থায় সম্পত্তির গ্রহীতা মারা গেলে ওই সম্পত্তির ভোগাধিকার কীভাবে কার্যকর থাকবে, সে বিষয়েও বিলে বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই।
প্রস্তাবিত সংশোধনের মাধ্যমে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে বলেও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন এই বিধানের ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা, অছিয়ত বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো ধরনের সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। এসব পদ্ধতির সঙ্গে নতুন বিধানের কোনো সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিও তৈরি হবে না।
তবে বিলটি নিয়ে সংসদে আপত্তি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। তারা দাবি করেন, প্রস্তাবিত বিধান কোরআন-সুন্নাহর নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে বিরোধী দল বিলটির ওপর ভোটে অংশ নেয়নি।
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় শফিকুর রহমান বলেন, কোরআনের মূল নীতি বহাল রাখা হবে কি না, সেটিই তাদের প্রশ্ন। তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে বলেন, ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন করার অধিকার সংসদের আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনের সঙ্গে সম্পত্তি হস্তান্তর ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় সরাসরি সম্পৃক্ত এবং এসব ক্ষেত্রে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত আইনের অধীনে সম্পত্তি হস্তান্তর বা দান করা হলেও এর ফলে হেবা, অছিয়ত কিংবা অন্য কোনো স্বীকৃত সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতি কোনোভাবেই প্রভাবিত হবে না। বিশেষ করে অসহায় ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই আইন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিলটি পাসের আগে সংসদে এ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বিলের প্রস্তাবের ওপর ভোট গ্রহণ করেন। ভোটের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
নতুন এই বিধানের ফলে কোনো বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও শুধু দান করার কারণে জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হবেন না। একইভাবে পিতামহ-মাতামহের ক্ষেত্রে নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দানের পরও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত ভোগের অধিকার বহাল রাখার সুযোগ তৈরি হবে। তবে বাস্তবে এই বিধান কীভাবে প্রয়োগ হবে এবং প্রচলিত সম্পত্তি হস্তান্তর ও ধর্মীয় বিধানের সঙ্গে এর প্রয়োগগত সমন্বয় কীভাবে করা হবে, তা আইনটি কার্যকর হওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au