ধ্বংসস্তূপে ১০ দিন পর জীবিত মিলল নিখোঁজ নারী
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ নামে এক নারীকে। তাকে মৃত ধরে নিয়ে…
রাশিয়ার তেল ভারত নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই কেনে, রাশিয়াকে ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে সহায়তা করার জন্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপভ।
এক সাক্ষাৎকারে দেনিস আলিপভ বলেন, ভারত রাশিয়াকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে তেল কেনে না। বরং নিজেদের জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করেই রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করছে ভারত।
এদিকে রাশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ ক্রেতার ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার একটি আইন বিবেচনা করছে।
ওয়াশিংটনের যুক্তি, রাশিয়ার তেল কেনার মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি সচল থাকছে। এর ফলে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার অর্থের জোগানও অব্যাহত থাকছে বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।
তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের উদ্যোগকে ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ হিসেবে দেখছেন রুশ রাষ্ট্রদূত দেনিস আলিপভ। তার দাবি, ভারতকে রাশিয়ার চেয়ে আরও ভালো দামে তেল সরবরাহ করার সুযোগ অন্য দেশগুলোরও রয়েছে। কিন্তু তারা সেই প্রতিযোগিতায় সুবিধা করতে না পারায় নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের মাধ্যমে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
আলিপভ বলেন, ভারত নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়াও ভারতের প্রয়োজন অনুযায়ী যতটা তেল প্রয়োজন, তা সরবরাহ করতে প্রস্তুত।
রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ইউক্রেন সফরের সময় তিনি বলেন, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ করলেই ইউক্রেন যুদ্ধ থেমে যাবে না।
এস জয়শঙ্করের মতে, প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা এই সংঘাতের সমাধান তেল, অ্যালুমিনা, খনিজ, ধাতু কিংবা সার কেনাবেচা বন্ধ করার মাধ্যমে হবে না। এর সমাধান হতে পারে সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে।
ভারতের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। তার মতে, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জ্বালানি চাহিদা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ইউক্রেন ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা, রাশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্য সীমিত করা গেলে মস্কোর রাজস্ব প্রবাহ কমবে এবং ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণেই রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে পশ্চিমা চাপের মধ্যেও রাশিয়া এখনো ভারতের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। জুন ও জুলাইয়ে রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল আমদানি করেছিল ভারত। যদিও আগস্টে দেশটির রুশ তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সুত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au