রোববার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।
(রয়টার্স: রামিল সিতদিকভ)
জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে গত মাসে ঘটে যাওয়া কথিত ড্রোন হামলার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ‘প্রকৃত যুদ্ধের শুরু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ।
রোববার রুশ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া বক্তব্যে লাভরভ বলেন, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস ইউরোপের শীর্ষ সামরিক শক্তি হিসেবে জার্মানিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে কথা বলছেন, তারই বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তিনি (মের্ৎস) কার্যত আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন।’
গত ১ সেপ্টেম্বর জার্মান সরকার জানায়, লাইপজিগ বিমানবন্দরে গত মাসে কথিত ড্রোন হামলার ঘটনায় রাশিয়াকে দায়ী করার মতো তথ্য-প্রমাণ তারা পেয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বার্লিনে রাশিয়ার একটি কনস্যুলেট ও একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয় জার্মানি।
তবে রাশিয়া বরাবরই পশ্চিম ইউরোপে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। লাইপজিগ বিমানবন্দরের ঘটনাতেও নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে মস্কো। বরং রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার জন্য জার্মানি ঘটনাস্থলে প্রমাণ সাজিয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে ক্রেমলিন।

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস বলেন, তদন্তের উপসংহারটি ছিল ‘স্পষ্ট ও আইনগতভাবে যথার্থ’।
(রয়টার্স: ক্রিশ্চিয়ান মাং)
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস শনিবার বলেন, লাইপজিগের ঘটনা জার্মানির সামনে একটি ‘গভীর বিচ্ছিন্নতা’ বা বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।
হ্যানোভারের কাছে দলীয় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করার সিদ্ধান্তটি ‘স্পষ্ট ও আইনগতভাবে যথার্থ’। একই সঙ্গে রাশিয়াকে এ ধরনের ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ অব্যাহত না রাখার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাইবার হামলা ঠেকাতে ‘সাইবারডোম’ গড়বে জার্মানি
লাইপজিগের ঘটনার পর রাশিয়ার সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জার্মানি।

ডোব্রিন্ডট বলেন, রাশিয়ার হাইব্রিড হামলা এখন জার্মানির দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে।
(রয়টার্স: টম লিটল)
জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ডট সংবাদপত্র বিল্ড অ্যাম জোনটাগকে বলেন, এসব ব্যবস্থার অন্যতম হলো ‘সাইবারডোম’ নামে একটি নাশকতাবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, রাশিয়ার ‘হাইব্রিড হামলা’ এখন জার্মানির দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে।
ডোব্রিন্ডট বলেন, ‘এসব হামলা আরও বাড়বে। তবে আমরা নিজেদের রক্ষা ও নিরাপদ রাখতে পারি।’
পরিকল্পনার আওতায় পুলিশের মোবাইল ড্রোন প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনকেন্দ্র ও সরকারি এলাকার আকাশসীমা সুরক্ষায় শহরগুলোতে দ্রুত মোতায়েনযোগ্য কাউন্টার-ড্রোন ইউনিট রাখা হবে বলে এক সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারকসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ড্রোন শনাক্ত করার পাশাপাশি সেগুলো প্রতিহত করার আইনি ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা ‘সাইবারডোম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছে জার্মানি। এর আওতায় ডিজিটাল সেন্সরের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে, যা সাইবার হামলার চেষ্টা শনাক্ত এবং তা প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।
এ ছাড়া নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োমেট্রিক মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং ভিডিও নজরদারির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ মেনে নেওয়া উচিত নয়: ন্যাটো
লাইপজিগের ঘটনা নিয়ে শনিবার ন্যাটোতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জোটটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ হুইটেকার। তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে পরিচালিত ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ কর্মকাণ্ড ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মেনে নেওয়া উচিত নয়।

ম্যাথিউ হুইটেকার বলেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া উচিত নয়।
(রয়টার্স: নিকোলাস ইকোনোমু)
ইতালিতে একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হুইটেকার বলেন, গত মাসের লাইপজিগের ঘটনা ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর সাম্প্রতিক অন্যান্য ঘটনার তুলনায় বেশি উদ্বেগজনক। কারণ, ইউক্রেনকে লক্ষ্য করে রাশিয়ার ছোড়া ড্রোন পথ হারিয়ে অন্য দেশে প্রবেশের ঘটনাগুলোর সঙ্গে এটি এক নয়।
তিনি বলেন, ‘লাইপজিগে আমরা যে ধরনের ঘটনা দেখেছি, কিংবা পোল্যান্ডে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো আরও উদ্বেগজনক হাইব্রিড কর্মকাণ্ড।’
হুইটেকার আরও বলেন, ‘কে এসব করছে তা যদি আমরা শনাক্ত করতে পারি, যেমন জার্মানি পেরেছে, তাহলে আমাদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অগ্রহণযোগ্য এবং আমরা তা মেনে নেব না।’
তার মতে, জ্বালানি অবকাঠামোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এ ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। তাই এসব স্থাপনায় জাতীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।
হুইটেকার বলেন, এ ধরনের হুমকি মোকাবিলার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের। তবে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোকে সহযোগিতা করবে।
সূত্রঃ রয়টার্স