রংপুরের চার খুন: তদন্তের কেন্দ্রে এখন পুলিশ কর্মকর্তা মাবুদ ও সনাতন
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন আর শুধু কে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগমী ও ১২ বছরের ছেলে…
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিন, গত ৫ আগস্ট ভারত থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ঘোষণা করেন, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরবেন।
তাঁর এই বক্তব্যকে যদি ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তা বাস্তবসম্মত মনে হওয়ার কারণ কম। তবে রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখলে এর অর্থ পরিষ্কার। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া ও মনোবল হারানো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, দলের নেতৃত্ব এখনো তাঁর হাতেই এবং তাঁর উত্তরসূরি ঠিক করার সময় এখনো আসেনি।
তবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন কি না, আওয়ামী লীগ আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ফিরতে পারবে কি না এবং শেখ হাসিনা আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে পারবেন কি না, এই তিনটি প্রশ্ন এক নয়। প্রতিটির জন্য আলাদা রাজনৈতিক বাস্তবতা ও শর্ত প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রথমটি সম্ভব, দ্বিতীয়টি কয়েক বছরের ব্যবধানে সম্ভাব্য হলেও তৃতীয়টির সম্ভাবনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের হত্যার ঘটনায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন শেখ হাসিনা। ফলে তিনি যদি ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরেন, তাহলে ক্ষমতার মঞ্চে নয়, তাঁকে ফিরতে হবে আইনি হেফাজতে।
শেখ হাসিনার এবারের পরিস্থিতি বুঝতে ১৯৮১ সালে তাঁর ভারত থেকে দেশে ফেরার ঘটনাটির সঙ্গে তুলনা করা যায়।
১৯৮১ সালে তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডে বেঁচে যাওয়া কন্যা। বাবার হত্যার ছয় বছর পর দেশে ফেরেন তিনি। তখন পর্যন্ত তিনি কোনো রাষ্ট্রীয় পদে ছিলেন না এবং নিজের কোনো রাজনৈতিক শাসনের রেকর্ডও ছিল না।
একটি বিভক্ত আওয়ামী লীগের প্রয়োজন ছিল এমন একজন প্রতীকের, যিনি সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন। শেখ হাসিনা সেই ভূমিকা পালন করেন।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি একেবারে উল্টো।
তিনি ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে এবং তাঁর শাসনামলে দমন-পীড়নের অভিযোগ ও নথিভুক্ত রাজনৈতিক রেকর্ড রয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে তাঁর শাসনামলের কর্মকাণ্ডও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে গেছে।
১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তাঁর রাজনৈতিক অতীতের অনুপস্থিতি। এবার সেই সুযোগ নেই।
তুলনামূলক রাজনীতির গবেষণায় দেখা যায়, কর্তৃত্ববাদী শাসকরা শুধু জনগণের সমর্থনের কারণে ক্ষমতায় টিকে থাকেন না। ক্ষমতাবান বিভিন্ন গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠান তাঁদের পাশে থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিজ্ঞানী মিলান স্বোলিকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্বৈরশাসকরা ক্ষমতায় টিকে থাকতে সামরিক বাহিনী, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মতো শক্তিশালী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করেন।
এই গোষ্ঠীগুলো তখনই শাসকের পাশে থাকে, যখন তাদের মনে হয় ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু শাসকের পতনের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠলে তারাও সমর্থন সরিয়ে নিতে পারে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে সেটিই ঘটেছিল। গণঅভ্যুত্থান শুধু শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করেনি, একই সঙ্গে এটিও দেখিয়ে দিয়েছিল যে তাঁর সরকার পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারছে না এবং তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও নিশ্চিত নয়।
এই দুর্বলতা স্পষ্ট হওয়ার পর ক্ষমতাবান বিভিন্ন পক্ষের জন্য তাঁর সরকারের কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়া সহজ ও নিরাপদ হয়ে ওঠে।
রাজনীতিতে আনুগত্য অনেক সময় টিকে থাকার ওপর করা এক ধরনের বাজি।
ভারত শেখ হাসিনাকে নিরাপদ অবস্থান এবং রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু বিদেশে নিরাপদে থাকা আর দেশের সরকার নিয়ন্ত্রণ করা এক বিষয় নয়।
দেশের ভেতরে যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো একসময় শেখ হাসিনার কর্তৃত্বকে আনুগত্যে পরিণত করেছিল, বিদেশে বসে কোনো পক্ষের পক্ষে তা নতুন করে তৈরি করা সম্ভব নয়।
আবার ক্ষমতায় ফিরতে হলে তাঁকে সেইসব শক্তির সম্মতি প্রয়োজন হবে, যারা একসময় তাঁর পক্ষে ছিল কিন্তু পরে সরে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনী, আদালত, জুলাই আন্দোলনের ছাত্র সংগঠন এবং বর্তমানে ক্ষমতার রাজনীতিতে থাকা দলগুলো।
বর্তমান বাস্তবতায় এসব পক্ষের মধ্যে শেখ হাসিনাকে আবার ক্ষমতায় ফেরানোর মতো কোনো বিশ্বাসযোগ্য জোটের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে গবেষক স্যামুয়েল হান্টিংটন একটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব নির্ধারণে তার অভিযোজন ক্ষমতা, জটিলতা, স্বায়ত্তশাসন ও অভ্যন্তরীণ সংহতিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এই মানদণ্ডে আওয়ামী লীগ বড় ধরনের দুর্বলতা দেখিয়েছে।
বারবারা গেডেস ও তাঁর সহগবেষকদের গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে দলগুলোর সংকট আরও গভীর হয়।
কারণ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা এমন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে না, যা প্রয়োজনে একজন নেতাকে সরিয়ে দিয়ে দলকে টিকিয়ে রাখতে পারে। ফলে নেতা ক্ষমতাচ্যুত হলে দলেরও টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে শেষ হয়ে গেছে।
জেমস লক্সটনের গবেষণায় দেখা যায়, পতিত স্বৈরশাসকদের উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলও সময়ের সঙ্গে আবার রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে।
চিলির ইউডিআই, এল সালভাদরের আরেনা, তাইওয়ানের কুওমিনতাং এবং ইন্দোনেশিয়ার গোলকার এর উদাহরণ।
এসব দলের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা, নতুন সাংবিধানিক কাঠামো মেনে নেওয়া, সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রাখা এবং পুরোনো শাসনের দমন-পীড়ন ও অপব্যবহার থেকে প্রকাশ্যে দূরত্ব তৈরি করা।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগের সামনে এমন পথই বাস্তবসম্মত হতে পারে।
দলের ভোটার ও রাজনৈতিক ভিত্তি টিকে থাকতে পারে, দলীয় প্রতীকও টিকে থাকতে পারে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে পতিত নেতা আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরবেন।
শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ শুধু আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে না। বরং বর্তমান সরকার কেমন দেশ পরিচালনা করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ভি.ও. কি এবং পরে মরিস ফিওরিনা দেখিয়েছেন, ভোটাররা অতীতকে অনেক সময় বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে বিচার করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার যদি মূল্যস্থিতি বজায় রাখতে পারে, দমন-পীড়ন ছাড়া আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পারে, প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করে এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে পারে, তাহলে আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় দেখার আগ্রহ কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে সরকার ব্যর্থ হলে কিংবা শেখ হাসিনার আমলের ‘উইনার-টেকস-অল’ বা বিজয়ী সবকিছু দখলে নেওয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিই যদি আবার ফিরে আসে, তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজনৈতিক নস্টালজিয়া তৈরি হতে পারে।
২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। দায়মুক্তি শুধু ভুক্তভোগীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে না, ভবিষ্যৎ সরকারকেও একই ধরনের অপরাধ করার সুযোগ করে দিতে পারে।
তবে এর বিপরীত দিকও গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগের সব ভোটারকে সম্মিলিতভাবে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করাও রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী হবে।
বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, দল নিষিদ্ধ করলে তার ভোটার বা সমর্থকগোষ্ঠী সাধারণত অদৃশ্য হয়ে যায় না। তারা অন্য কোথাও সংগঠিত হয়, অপেক্ষা করে এবং সময়ের সঙ্গে আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে পারে।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ভারসাম্য তাই অত্যন্ত জটিল।
সমাধান একদিকে অতীত ভুলে যাওয়া নয়, অন্যদিকে নির্বিচারে প্রতিশোধ নেওয়াও নয়। প্রয়োজন ব্যক্তির দায় ব্যক্তির ওপর রেখে আইনসম্মত বিচার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সংস্কার করা আওয়ামী লীগকে শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতিতে ফেরার একটি স্বচ্ছ ও আইনি পথও রাখতে হবে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের ঘোষণাকে রাষ্ট্রক্ষমতা পুনর্দখলের বাস্তব পরিকল্পনার চেয়ে দলের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ধরে রাখার কৌশল হিসেবেই দেখা যায়।
এটি শেখ হাসিনার জন্য হয়তো রাজনৈতিকভাবে যৌক্তিক, কিন্তু আওয়ামী লীগের জন্য ব্যয়বহুল।
আওয়ামী লীগ যতদিন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফেরার অপেক্ষায় থাকবে, ততদিন দলটি নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে পিছিয়ে পড়বে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যের চেয়ে এখন কয়েকটি বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
আওয়ামী লীগের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতা স্বাধীন রাজনৈতিক কর্তৃত্ব নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন কি না, সরকার দলটির পুনর্নিবন্ধন ও রাজনীতিতে ফেরার জন্য আইনি পথ তৈরি করে কি না, করলে কী শর্ত দেওয়া হয়, অনুপস্থিতিতে দেওয়া রায়গুলো উচ্চ আদালতে পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয় কি না, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক জোট অটুট থাকে নাকি ভেঙে যায় এবং দেশে মূল্যস্ফীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয় নাকি অবনতি ঘটে, এসবই ভবিষ্যৎ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
শেখ হাসিনার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব করতে হলে প্রায় সবগুলো বিষয়কেই একই সময়ে তাঁর পক্ষে যেতে হবে।
এখানেই বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো বড় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সামনে বড় একটি বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। রাজনীতিতে ফিরতে হলে সম্ভবত শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরানোর প্রচেষ্টা থেকে সরে আসাই তাদের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন শাসকদের জন্যও রয়েছে একটি সতর্কবার্তা।
যদি এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়, যেখানে বিজয়ী দল রাষ্ট্রযন্ত্রের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে এবং পরাজিত পক্ষের জন্য আইনসম্মত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কোনো সুযোগ থাকবে না, তাহলে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যে রাজনৈতিক বাস্তবতার সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিই নতুন করে তৈরি হবে।
শেখ হাসিনা হয়তো একদিন বাংলাদেশে ফিরবেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ আবার শেখ হাসিনার শাসনে ফিরবে, এমন সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
লেখক পরিচিতি:
মো. ওবায়দুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার রাজনীতি বিভাগে পিএইচডি গবেষক এবং ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে ভিজিটিং স্কলার।
মো. সোহরাব হোসেন ইউনিভার্সিটি অব ইউটাহর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি গবেষক।
সূত্র: এশিয়া টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au