ইথিওপিয়ায় ৬০-এর বেশি খ্রিস্টান নিহতের ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বলল গির্জা
ইথিওপিয়ার ওরোমিয়া অঞ্চলে খ্রিষ্টানদের লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দেশটির অর্থোডক্স গির্জার পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। হামলায়…
পাবনার আটঘরিয়ায় আদম আলী (৬০) নামে এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের চন্ডীপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আদম আলী আটঘরিয়া উপজেলার ষাটগাছা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একদন্ত হাট থেকে বাজার করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। পথে চন্ডীপাশা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিতে আহত হয়ে তিনি পড়ে গেলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
হামলাকারীরা আদম আলীর মৃত্যু নিশ্চিত করার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের দাবি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। কারা এবং কী কারণে আদম আলীকে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং হত্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, আদম আলীর বিরুদ্ধে থাকা তমা হত্যা মামলার সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাকি ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তদন্তে তা বেরিয়ে আসবে।
তবে নিহত আদম আলীর অতীত ঘিরে এই হত্যাকাণ্ডে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, আটঘরিয়া উপজেলার ষাটগাছা গ্রামের কিশোরী তমা খাতুন (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আদম আলী।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে স্থানীয় হাচেন আলীর বাঁশঝাড় থেকে তমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। এ ঘটনায় পরদিন ২৫ ডিসেম্বর তমার বাবা নায়েব আলী বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়।
মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন আদম আলী। পরে ২৮ ডিসেম্বর পাবনার র্যাব-১২ ও টাঙ্গাইলের র্যাব-১৪-এর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার আশেকপুর বাইপাস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।
র্যাবের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদে আদম আলী তমা খাতুনকে ধর্ষণের পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো আসামির অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তমা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রেও আদম আলীকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়।
পরে প্রায় এক বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন আদম আলী।
তাঁর জামিনে মুক্তির পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নানা অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তিনি তমা হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং মামলার সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো শুরু করেছিলেন। এমনকি তাঁর হুমকির কারণে তমার বাবা নায়েব আলী ভিটেমাটি ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তমা হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারিক নথিতে এ ধরনের অভিযোগের কী অবস্থান রয়েছে, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তমা হত্যা মামলার সঙ্গে আদম আলীর হত্যার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।
পুলিশ ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়েছে। তবে সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজতে হলে শুধু তমা হত্যা মামলায় আদম আলীর আসামি হওয়া যথেষ্ট নয়। তাঁকে কারা হুমকি দিয়েছিল, তিনি নিজে সম্প্রতি কাউকে কোনো হুমকির কথা জানিয়েছিলেন কি না, তমা হত্যা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক কোনো বিরোধ হয়েছিল কি না এবং মামলা ঘিরে কোনো পক্ষের সঙ্গে নতুন করে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au