ব্রিকস সম্মেলনে না গিয়ে বড় কূটনৈতিক সুযোগ হারাল বাংলাদেশ?
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশ না নেওয়াকে ‘হারানো সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন ভারতের বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের সহযোগী ফেলো প্রবেশ কুমার গুপ্ত। তার মতে,…
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের মূল্যায়ন শুধু তাঁদের কোনো একটি পদ বা দায়িত্ব দিয়ে করা যায় না। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় তাঁদের ভূমিকা ছড়িয়ে থাকে আন্দোলন-সংগ্রাম, সংগঠন, সংকট মোকাবিলা এবং গণতন্ত্রের লড়াইয়ের নানা অধ্যায়ে। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ছিলেন তেমনই একজন রাজনীতিক। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ইতিহাসে তিনি ছিলেন একজন পরীক্ষিত সংগঠক, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর, নারী নেতৃত্বের অগ্রপথিক এবং দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ের অন্যতম সাহসী কান্ডারি।
১৯৩৫ সালের ৮ মে মাগুরা জেলায় তাঁর মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তাঁর বাবা সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ এবং মা সৈয়দ আছিয়া খাতুন। শিক্ষাজীবনে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি রাজনীতির মাঠে কাজ করতে করতেই তিনি অর্জন করেছিলেন বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা।
১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ষাটের দশকের স্বাধিকার আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার আন্দোলন এবং তৎকালীন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দর্শন এবং বাঙালির অধিকার ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি তাঁর আনুগত্য পরবর্তী জীবনের নানা সংকটেও অটুট ছিল। ১৯৬৯ সালে তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় দেশের নারী সমাজকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সহজ ছিল না। সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তিনি নারী সমাজকে সংগঠিত করেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখেন। নারী নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে তাঁর এই ভূমিকা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার গোবরা নার্সিং ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও সেবা এবং শরণার্থীদের সহায়তায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও মানবিক দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধ যে শুধু রণাঙ্গনে অস্ত্র হাতে লড়াইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর পেছনে ছিল বিশাল মানবিক, সাংগঠনিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড—সাজেদা চৌধুরীর ভূমিকা তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় আসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ এক ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটে পড়ে। দলের বহু নেতা-কর্মী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন, অনেকে আত্মগোপনে চলে যান এবং সংগঠনের অস্তিত্বই এক কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সাজেদা চৌধুরী পিছিয়ে যাননি। ১৯৭৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি ছিল এমন এক সময়, যখন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অস্তিত্ব ধরে রাখাই ছিল বিরাট চ্যালেঞ্জ। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের পর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন অনিশ্চয়তা, ভয় ও হতাশা বিরাজ করছিল, তখন তিনি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, দলকে পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা চালানো এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ধরে রাখার কাজে সাহসী ভূমিকা পালন করেন। এই সময়টিই তাঁকে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কান্ডারি হিসেবে ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে দেয়। কারণ রাজনৈতিক সুসময় অনেক নেতারই দেখা যায়, কিন্তু সংগঠনের অস্তিত্ব যখন সংকটে, নেতৃত্ব যখন বিপর্যস্ত এবং রাজনৈতিক পরিবেশ যখন প্রতিকূল—সেই সময়ে দলের পাশে দাঁড়ানোই একজন নেতার প্রকৃত পরীক্ষার মুহূর্ত। সাজেদা চৌধুরী সেই পরীক্ষায় নিজের দৃঢ়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের ধারায় তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী সামরিক শাসনামলে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে দেশের মাটিতে ফিরে আসেন। সেই দুঃসময়ে শেখ হাসিনার পাশে থেকে একজন বিশ্বস্ত সহযাত্রী ও পরীক্ষিত অভিভাবক হিসেবে তিনি দলের হাল ধরতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড যখন নতুন গতি পায়, তখন সাজেদা চৌধুরীও সেই নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে সক্রিয় থাকেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ দলকে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এক বিশাল শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র নারী সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ সাংগঠনিক পদে একজন নারীর অধিষ্ঠান নারী নেতৃত্বের সক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আশির দশকের শেষভাগে যখন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন তিনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের অংশ হিসেবে রাজপথের আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসনের পতন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়। সেই আন্দোলনে তাঁর রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও আপসহীন অবস্থান ছিল অত্যন্ত জোরালো।
১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তাঁর পরামর্শ ও ভূমিকা ছিল অত্যন্ত মূল্যবান। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সংসদীয় রাজনীতিতেও তাঁর দীর্ঘ ও সফল পথচলা ছিল। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদে তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট পাঁচ মেয়াদে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জাতীয় সংসদের উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন। সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পরিণত নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন নারী রাজনীতিকের জন্য দলের সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং জাতীয় সংসদের উপনেতার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দীর্ঘদিন থাকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক বিরল অর্জন।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি পরিবেশ ও বনমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার পরিচয় দেন। পরিবেশ ও বনসম্পদ রক্ষার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সম্মাননা লাভ করেন। গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালে তিনি ইউনেস্কো ফেলোশিপ লাভ করেন। সমাজসেবা ও রাজনীতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’-এ ভূষিত করে।
সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনকে শুধু আওয়ামী লীগের ইতিহাসের একটি অধ্যায় হিসেবে দেখলে তাঁর অবদানকে পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়ন করা হবে না। তিনি বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের বিকাশেরও একজন গুরুত্বপূর্ণ পথিকৃৎ। মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং জাতীয় সংসদের উপনেতা—প্রতিটি পর্যায়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে একজন নারীও একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব সফলভাবে দিতে পারেন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল—দুর্দিনেই নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা হয়। সুসময়ে অনেকেই পাশে থাকেন, কিন্তু সংকটের মুহূর্তে সংগঠন, আদর্শ ও সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর সাহসই একজন নেতাকে ইতিহাসে আলাদা মর্যাদা দেয়। সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সেই সংকট মোকাবিলার দৃঢ়তা।
১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যে রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল, তা শেষ হয় ২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। এর মধ্যে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন পাকিস্তানি শাসনামলের স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়, বঙ্গবন্ধুর শাসনকাল, ১৯৭৫-এর ভয়াবহ রাজনৈতিক বিপর্যয়, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও নেতৃত্ব গ্রহণ, আওয়ামী লীগের দুঃসময় ও পুনর্গঠন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তী গণতান্ত্রিক রাজনীতির নানা বাঁক। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়তো এটাই—তিনি শুধু সুসময়ের নেতা ছিলেন না; তিনি ছিলেন দুঃসময়ের পরীক্ষিত সংগঠক। ১৯৭৫-এর পর যখন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে সংগঠনের হাল ধরা থেকে শুরু করে, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তাঁর পাশে পরম বিশ্বস্ততার সঙ্গে থাকা এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ সাধারণ সম্পাদক, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন—এই দীর্ঘ ধারাবাহিকতা তাঁর রাজনৈতিক দৃঢ়তা, আনুগত্য ও সাংগঠনিক দক্ষতার সাক্ষ্য বহন করে।
২০২২ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তাঁর শারীরিক প্রয়াণে বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসান ঘটে। কিন্তু তাঁর কর্ম, রাজনৈতিক সংগ্রাম, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়ানোর সাহস তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তাই কেবল আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সাধারণ সম্পাদক নন; তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী, পঁচাত্তর-পরবর্তী দুঃসময়ের একজন পরীক্ষিত কান্ডারি, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক সংগ্রামী নেত্রী এবং বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের এক অবিসংবাদিত পথিকৃৎ। মৃত্যুবার্ষিকীতে এই মহীয়সী নেত্রীর স্মৃতির প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসা।
(মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি)
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au