সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী: পঁচাত্তর-পরবর্তী দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের হাল ধরা এক সাহসী নেত্রী
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু মানুষ থাকেন, যাঁদের মূল্যায়ন শুধু তাঁদের কোনো একটি পদ বা দায়িত্ব দিয়ে করা যায় না। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় তাঁদের ভূমিকা ছড়িয়ে…
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে ফ্ল্যাট প্রতারণার একটি মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে হরিদাস চন্দ্র তরণীর পক্ষে আইনজীবী বাসুদেব গুহ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি একটি কোম্পানির কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান গত ২৪ আগস্ট উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী ও ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, ওবাইদুল ইসলাম তার কলেজের বন্ধু। ওবাইদুল নিজেকে ‘অনয় ডেভেলপার’ কোম্পানির মালিক এবং খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তার অফিস রয়েছে বলে তাকে জানান। পরে মাহবুবুর রহমান নিকুঞ্জ এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করলে ওবাইদুলের কাছে তিনি প্রথমে ১০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা দেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে ওবাইদুল আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকাও দেন মাহবুবুর রহমান। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে তাকে ঘোরানো হচ্ছিল এবং টাকা ফেরত চাইলেও তা দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে মাহবুবুর রহমান নিকুঞ্জে ওবাইদুল ইসলামের অফিসে গেলে সেখানে তাকে জানানো হয়, ওবাইদুলের ব্যবসায়িক অংশীদার হরিদাস চন্দ্র তরণী আসবেন। কিছু সময় পর হরিদাস চন্দ্র তরণী সেখানে গেলে তিনি মাহবুবুর রহমানকে বলেন, তার কাছে টাকা নেই, তবে ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি ফ্ল্যাট দিতে পারবেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হরিদাস চন্দ্র তরণীর কথায় বিশ্বাস করে মাহবুবুর রহমান তাকে আরও ৪৫ লাখ টাকা দেন। এভাবে ওবাইদুল ইসলাম ও হরিদাস চন্দ্র তরণী মিলে তার কাছ থেকে মোট ৭৫ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পরে তাকে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন বাদী।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানা গত ২৫ আগস্ট হরিদাস চন্দ্র তরণীকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পরে ১ সেপ্টেম্বর তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির জন্য হরিদাস চন্দ্র তরণীকে আদালতে হাজির করা হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম গত ১২ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় ১২ জুলাই রাতেই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পরদিন আদালতে হাজির করা হলে ওই মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে ১৬ জুলাই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে ফ্ল্যাট প্রতারণার মামলায় হরিদাস চন্দ্র তরণীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার নিজস্ব বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au