এবার ডিপিএলের সমালোচিত সেই আউট নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন ক্রিকেটার ইমরুল কায়েস।দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ায় আউটের সে ভিডিওটি পোস্ট করে ইমরুল তার ক্ষোভ প্রকাশ করে।ইমরুল দাবি জানায় বুধবারের শাইনপুকুর বনাম গুলশানের ম্যাচটি আবারও রিসিডিউল করা হোক।কেননা ইমরুলের চোখে মনে হয়েছে ম্যাচটি অনেকটাই পাতানো।কারণ অনেকটা পরিকল্পিত ভাবেই কোন একটা দলকে সুপার লীগে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না,যা পয়েন্ট টেবিল দেখলেই স্পষ্ট।গুলশান ক্রিকেট ক্লাব আজকের ম্যাচটি হেরে গেলেই পয়েন্ট টেবিলের সাতে বা আটে নেমে যেতে পারতো।তবে শাইনপুকুরের বিপক্ষে ম্যাচ জেতায় তাদের বর্তমান অবস্থান ৩নম্বরে।
ইমরুল আরও প্রশ্ন তুলেন,এইটা কী ধরনের নাটক?!
বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ইমরুল তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আউট সে ভাইরাল ভিডিওটি প্রকাশ করে বলেন, আসসালামুয়ালাইকুম,আজকে আমি হৃদয় থেকে ক্ষোভ নিয়ে কিছু কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি। মিডিয়া, ক্রিকেটার, সাংবাদিক, ধারাভাষ্যকার—সবাই আজ একটা ঘটনায় স্তম্ভিত, ক্ষুব্ধ। কারণটা খুব পরিষ্কার—ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আজ যে কাজটা হয়েছে, সেটা শুধু লজ্জাজনক না, এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করেছে।
ইমরুলের দাবি গুলশান ক্লাবকে নিশ্চিত করেই এখানে অ্যাডভান্টেজ দেওয়া হয়েছে।কেননা গুলশান আজকে হারলেই বাদ হয়ে যাওয়ার জোর এক সম্ভাবনা থাকতো।তবে আজকের ম্যাচ জেতায় সুপার লীগ অনেকটাই নিশ্চিত নয়া এই দলটির।ইমরুল এই বিষয়ে বলেন,
একটা দলকে সুপার লিগে উঠতে না দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে আরেক মাঠে দুই দল নিজেদের মধ্যে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে! এটা কী ধরনের নাটক? আজকের সেই ম্যাচের ভিডিও প্রমাণসহ নিচে রয়েছে—আপনারা নিজেরাই দেখুন, বিচার করুন।
ইমরুল অনেকটা আক্ষেপ করে জানান,
এই যদি হয় আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের অবস্থা, তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে কারা খেলবে? কাদের হাতে আমরা তুলে দিচ্ছি দেশের পতাকা? যারা মাঠে নামার আগেই ম্যাচের ফয়সালা করে নেয়, তাদের দিয়ে কী দেশের প্রতিনিধিত্ব হয়? লজ্জা! যাদের ব্যবহার করে এসব নোংরা খেলা খেলানো হচ্ছে, তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, কারণ ওরা আজ নিজেরাই নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছে।
আমরা যারা বাংলাদেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখি, সেই স্বপ্নকে বাস্তব করতে দিনরাত খেটে যাচ্ছি—আর কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ নিজেদের স্বার্থে গোটা দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
ইমরুলের দাবি বুধবারের শাইনপুকুর বনাম গুলশানের ম্যাচটি আবারও রিসিডিউল করা হোক,বাহাতি এই ব্যাটার আরও জানান,
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চেষ্টা করছে উন্নতির, কিন্তু এইসব ঘটনাগুলো সেই চেষ্টাকেও মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছে।
আমি জোরালোভাবে দাবি জানাই—এদের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা এই কাজে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে। আর যদি সেটা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত আজকের ম্যাচ বাতিল করে পুনরায় রিশিডিউল করা উচিত।
শেষে ইমরুল কায়েস আরো যোগ করেন,বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এভাবে শেষ হতে দেওয়া যায় না। আজকে চুপ থাকলে, কাল হয়তো আর কিছু বলার সুযোগ থাকবে না।