আলপি চমকে জর্ডানকে হারালো বাংলাদেশ
এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল বাছাইপর্বের প্রস্তুতিতে জর্ডানের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। সফরের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে স্বাগতিক জর্ডানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে লাল-সবুজের…
অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে দেশের অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের একটি অংশ এখনো প্রশাসনে রয়েছে, যে কারণে দেশের মানুষ দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র পুরোপুরি জানতে পারছে না।
রোববার বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সভায় বিএনপি এবং দলটির সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের কোষাগার লুট করেছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি সহায়তার অর্থসহ দেশের বিভিন্ন সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকেও অর্থ চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফিলিপাইনে অর্থ পাচারের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, সেখানে এ ঘটনায় জড়িত অনেকেই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে বাংলাদেশে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো যথাযথ বিচার হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘আমাদের অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর।’ তাঁর অভিযোগ, ঘুষ, লুটপাটসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশে অন্যায় ও অপরাধের বিচার হয়। কিন্তু বাংলাদেশে বছরের পর বছর মানুষ বিচার চাইলেও অনেক অপরাধের বিচার হয় না বলে তিনি আক্ষেপ করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার মন্ত্রী ও নেতাদের বিরুদ্ধে সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের লন্ডনে বিপুলসংখ্যক বাড়ি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুবাই ও যুক্তরাষ্ট্রেও তাঁর সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদ বাংলাদেশের জনগণের অর্থ লুট করে অর্জন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্পিকার।
ভারতের প্রসঙ্গ তুলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক, এটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি চায় না। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগের সরকার দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের চেয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। এ সময় তিনি কয়েকটি চুক্তির সমালোচনা করে দাবি করেন, এসব চুক্তির কারণে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবহার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ভারতীয় জাহাজ বন্দরে এলে অন্য জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের জাহাজও খালি করে আগে ভারতীয় জাহাজের পণ্য খালাসের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিবহনের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব পণ্যের জন্য যথাযথ শুল্ক পরিশোধ করা হয় না বা নামমাত্র শুল্কে পরিবহন করা হয়। এতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়েও বক্তব্য দেন স্পিকার। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে নিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হচ্ছেন। এ সময় তিনি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতির তুলনা করেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা। সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, হাসান মাকসুদুর রহমান, ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন জুলফিকারসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au