সৌদির তেল অবকাঠামোয় হামলা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল ৩%
সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানি একটি কার্গো জাহাজে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। সোমবার…
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বর্তমানে নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য, সীমান্ত এবং দুই দেশের মানুষের যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কোন পথে এগোতে পারে, তা নিয়ে মতামত দিয়েছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর কূটনৈতিক সম্পাদক শুভজিৎ রায়ের সঙ্গে ৩ সেপ্টেম্বর দেওয়া ‘এক্সপ্লেইনড.লাইভ’ সাক্ষাৎকারে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন।
পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, প্রায় ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশ ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশকে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনামূলক মতামত দেন। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কিছু অভিযোগও তুলে ধরেন। তার দাবি, ওই সময়ে অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের মুক্তি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের সর্বশেষ নির্বাচন নিয়েও পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী প্রশ্ন তোলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
তারেক রহমান প্রসঙ্গে ভারতের সাবেক এই হাইকমিশনার বলেন, তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে। রাজনৈতিক ও আইনি বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে তারেক রহমান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী একটি সমঝোতার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট রয়েছে এবং অর্থনৈতিক চাপ সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির বর্তমান সরকারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন আগের সরকারের তুলনা প্রসঙ্গে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, আগের সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। তবে বিএনপির ভেতরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে দলের একটি অংশ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী। তার মতে, বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর না করার সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানের প্রভাব থাকতে পারে বলেও তিনি ধারণা প্রকাশ করেন।
তবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ রয়েছে। চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারতে যান। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ রয়েছে। এসব কারণে সম্পর্ককে উপেক্ষা করা কোনো দেশের জন্যই সহজ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ভারত কীভাবে কাজ করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের নীতি হলো, যে সরকার ক্ষমতায় থাকে তার সঙ্গেই কাজ করা। অতীতে সামরিক সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেও ভারত সম্পর্ক বজায় রেখেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হলেও দুই দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় শেখ হাসিনার অবস্থান, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, পানি বণ্টন, সীমান্ত, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংবেদনশীল ও কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন।
বিশেষ করে গঙ্গার পানি বণ্টনসহ অভিন্ন নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও মানুষের যাতায়াতের মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কীভাবে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে রাজনৈতিক মতপার্থক্যগুলো কীভাবে সামাল দেওয়া হয় এবং দুই দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কতটা বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা করতে পারে তার ওপর। পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর বক্তব্যেও উঠে এসেছে, নানা রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও ভারত-বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা দুই দেশকে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au