মহাবিপর্যয়ে তুলনামূলক নিরাপদ থাকবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড
পারমাণবিক যুদ্ধ, ভয়াবহ মহামারি, বিশাল কোনো গ্রহাণুর আঘাত কিংবা বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মতো বৈশ্বিক দুর্যোগ দেখা দিলে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থানে থাকতে…
মৃত্যুর পর মানুষের দেহে কি কোনোদিন আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব? বর্তমান বিজ্ঞান এখনো এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর দিতে পারেনি। তবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি একদিন সেই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে, এমন আশায় মৃতদেহ অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের হলব্রুক শহরে রয়েছে সাদার্ন ক্রায়োনিক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তরল নাইট্রোজেনের মাধ্যমে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্বাস, দেহ ও বিশেষ করে মস্তিষ্কের টিস্যু যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির মাধ্যমে এসব দেহ পুনরুজ্জীবিত করার কোনো পদ্ধতি আবিষ্কৃত হতে পারে।
সাদার্ন ক্রায়োনিক্সে বর্তমানে সাতজন মানুষের দেহ সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। বিশালাকৃতির স্টিলের পাত্রে তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করে এসব দেহ অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় রাখা হয়।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটির এই পরিকল্পনা শুরু হয়। ২০২৩ সাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০২৪ সাল থেকে মৃতদেহ সংরক্ষণের প্রক্রিয়া শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৪ সালের মে মাসে সিডনিতে প্রায় ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার দেহ সংরক্ষণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কয়েক দিন ধরে চলা বিশেষ প্রক্রিয়া শেষে ওই ব্যক্তি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ গোলার্ধের প্রথম ক্রায়োনিক্স রোগী হিসেবে সংরক্ষিত হন।
দেহকে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় নিয়ে যাওয়ার আগে রক্তের পরিবর্তে শরীরে বিশেষ ধরনের সংরক্ষণকারী তরল প্রবেশ করানো হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শরীরের কোষের ভেতরে বরফের স্ফটিক তৈরি হওয়া যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। কারণ বরফের স্ফটিক কোষ ও টিস্যুর গঠন ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এরপর ধাপে ধাপে দেহের তাপমাত্রা কমিয়ে মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয় এবং তরল নাইট্রোজেনের মাধ্যমে তা সংরক্ষণ করা হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে হলব্রুকের ওই কেন্দ্রে দ্বিতীয় ব্যক্তির দেহ সংরক্ষণ করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ সংরক্ষিত দেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে।
এই পদ্ধতিতে একটি মৃতদেহ দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করতে খরচ হয় প্রায় ২ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ রুপি।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে নিজের দেহ সংরক্ষণ করে রাখতে আগ্রহীদের জন্য এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া।
বর্তমান সময়ে মৃত মানুষের দেহে আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনার মতো কোনো প্রযুক্তি বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। তাই ক্রায়োনিক্সের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা দেহ ভবিষ্যতে জীবিত করা যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।
তবে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় সংরক্ষিত কিছু মস্তিষ্কের টিস্যু নিয়ে গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বৈদ্যুতিক ও স্নায়বিক কার্যকলাপের কিছু অংশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এ ধরনের গবেষণাই ক্রায়োনিক্স নিয়ে আশাবাদীদের উৎসাহ জোগাচ্ছে।
সাদার্ন ক্রায়োনিক্সের চেয়ারম্যান পিটার তসোলাকিডিস মনে করেন, ভবিষ্যতে সংরক্ষিত দেহগুলো পুনরুজ্জীবিত করার সম্ভাবনা প্রায় ১০ শতাংশ হতে পারে। তবে তার মতে, এমন কোনো প্রযুক্তি তৈরি হলে সেটি বাস্তবে প্রয়োগ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
ফলে বর্তমানে ক্রায়োনিক্সকে মৃতদেহে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার প্রমাণিত চিকিৎসা বা প্রযুক্তি হিসেবে দেখা যায় না। বরং ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে মানুষের দেহ ও মস্তিষ্ক সংরক্ষণ করে রাখার একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবেই এটি বিবেচিত হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au