রাতে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ।
লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার রাতে এস্তাদিও মার্তিনেস ভালেরোতে স্বাগতিক এলচের মুখোমুখি হবে তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে লিগের শীর্ষস্থান আরও কাছে যাওয়াই এখন লস ব্লাঙ্কোসদের লক্ষ্য।
লা লিগায় পাঁচ ম্যাচ শেষে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ বর্তমানে বার্সেলোনার চেয়ে তিন পয়েন্ট পিছিয়ে। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে ১৩ গোল হজম করা এলচে রয়েছে অবনমন অঞ্চলে। ফলে কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে এগিয়ে থেকেই ম্যাচে নামবে রিয়াল।
জয়ের ধারায় ফিরেছে রিয়াল
হোসে মরিনহো দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর লা লিগায় পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। শুরুতে ভালো ছন্দে থাকলেও রিয়াল বেতিসের মাঠে ১-০ গোলে হেরে কিছুটা ধাক্কা খায় তারা।
সেই ম্যাচে কার্লোস এসপির একটি গোল বাতিল হয়। একই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের নেওয়া পেনাল্টিও রুখে দেন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক। তবে সেই হারের পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ইতিবাচকভাবে অভিযান শুরু করেছে রিয়াল। মরিনহোর সাবেক ক্লাব ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় ১৬তম শিরোপা জয়ের মিশন শুরু করেছে তারা।
এরপর লা লিগায় ফিরে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রায়ো ভায়েকানোকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় রিয়াল। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। বাকি দুটি গোল করেন আলভারো কারেরাস ও জুড বেলিংহাম।
ঘরের মাঠে দুর্দান্ত, অ্যাওয়েতে কিছুটা ভিন্ন চিত্র
রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বড় জয় নিয়ে টানা তৃতীয় হোম লিগ ম্যাচে চারটি করে গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ঘরের মাঠের তুলনায় অ্যাওয়ে ম্যাচে তাদের গোলের সংখ্যা কিছুটা কম।
লা লিগায় প্রথম দুই অ্যাওয়ে ম্যাচে রিয়াল মোট দুটি গোল করেছে। এবার এলচের বিপক্ষে সেই গোলখরা কাটানোর সুযোগও থাকছে তাদের সামনে।
এলচে পাঁচ ম্যাচে ১৩ গোল হজম করেছে। ফলে কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহামসহ রিয়ালের আক্রমণভাগের সামনে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
এলচের মাঠে রিয়ালের শক্তিশালী রেকর্ড
এলচের বিপক্ষে রিয়ালের সাম্প্রতিক রেকর্ডও বেশ শক্তিশালী। ১৯৭৮ সালের মার্চে এলচের মাঠে ৩-১ গোলে হারের পর সেখানে শেষ আট সফরের ছয়টিতেই জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
গত মৌসুমে অবশ্য এলচের মাঠে গিয়ে ২-২ গোলে ড্র করেছিল লস ব্লাঙ্কোস। তাই এবার সেই ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্য থাকবে তাদের।
অন্যদিকে এলচের সামনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার ধারা ভাঙার সুযোগ। ১৯৭৮ সালের পর থেকে রিয়ালের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে জয় না পাওয়ার পর এবার সেই ৪৮ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চাইবে স্বাগতিকরা।
রিয়ালের জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ বার্সেলোনা বুধবার রেসিংয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে। তার আগে এলচেকে হারাতে পারলে অন্তত সাময়িকভাবে পয়েন্টে বার্সেলোনার সঙ্গে সমতা ফেরাতে পারবে রিয়াল মাদ্রিদ।
ফলে এলচের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু আরেকটি লিগ ম্যাচ নয়, বরং শীর্ষস্থান দখলের দৌড়ে রিয়ালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ। জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বার্সেলোনার ওপর চাপ বাড়ানোই হবে হোসে মরিনহোর দলের প্রধান লক্ষ্য।