এলচেকে হারিয়ে বার্সার কাছাকাছি যেতে চায় রিয়াল
লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার রাতে এস্তাদিও মার্তিনেস ভালেরোতে স্বাগতিক এলচের মুখোমুখি হবে তারা।…
নাইজেরিয়ার ধনকুবের আলিকো ডাঙ্গোটে তাঁর মালিকানাধীন বিশাল তেল শোধনাগারের প্রায় ৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২১০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আফ্রিকার ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় শেয়ার বিক্রির উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাঙ্গোটের লক্ষ্য শুধু বড় ব্যবসায়ী বা ধনী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ নাইজেরীয়দেরও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেওয়া।
ডাঙ্গোটে শোধনাগারের শেয়ার কেনার সুযোগ পেয়ে নাইজেরিয়ার অনেক সাধারণ মানুষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কেউ কেউ নিজেদের সঞ্চয় থেকে টাকা তুলে এই বিনিয়োগে অংশ নিচ্ছেন।
তাদের একজন ইসাহ সালিসু। তিনি বিবিসিকে জানিয়েছেন, শেয়ার কেনার জন্য নিজের সঞ্চয় থেকে ৫০ হাজার নাইরা, যা প্রায় ২৮ ডলারের সমান, তুলে নিয়েছেন। তাঁর আশা, বর্তমানে অল্প যে অর্থ বিনিয়োগ করছেন, ভবিষ্যতে সেই বিনিয়োগের মূল্য অনেক বেড়ে যাবে।
সালিসু বলেন, এই সুযোগ তিনি হাতছাড়া করতে চান না। তাঁর পরিচিত অনেক মানুষও শোধনাগারটির শেয়ার কেনার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়াটি এক মাস ধরে চলবে। একজন বিনিয়োগকারীকে কমপক্ষে ১০টি শেয়ার কিনতে হবে, যার জন্য প্রায় ৪ ডলার খরচ হবে।
অর্থনীতি ও ব্যবসা বিশেষজ্ঞ ড. আবদুলরাজাক ইব্রাহিম ফাগে ডাঙ্গোটের এই উদ্যোগকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তাঁর মতে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে লাভের পাশাপাশি লোকসানের ঝুঁকিও রয়েছে। শেয়ারের দাম কমে গেলে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের বিনিয়োগ করা অর্থের একটি অংশ হারাতে পারেন।
ড. ফাগে বিশেষ করে প্রথমবারের মতো শেয়ার কিনছেন এমন ব্যক্তিদের নিজেদের পুরো সঞ্চয় বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী কয়েক মাসে প্রয়োজন হতে পারে এমন অর্থও শেয়ারে বিনিয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, এমন অর্থই বিনিয়োগ করা উচিত, যা আগামী তিন, চার বা পাঁচ বছর হাতে না থাকলেও দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা হবে না।
শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তাঁর আশঙ্কা, শেয়ারবাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা মানুষের সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা সক্রিয় হতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের শুধু তালিকাভুক্ত ও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
নাইজেরিয়া আফ্রিকার অন্যতম বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানির একটি বড় অংশ আমদানি করতে হয়েছে। এর অন্যতম কারণ ছিল দেশে পর্যাপ্ত তেল শোধন সক্ষমতার অভাব।
এই পরিস্থিতিতে আলিকো ডাঙ্গোটের বিশাল শোধনাগারটি চালু হওয়ার পর দেশটির জ্বালানি খাতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৪ সালে শোধনাগারটিতে উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে নাইজেরিয়ার মোট জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি এখান থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লাগোসের কাছে লেক্কি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে নির্মিত এই শোধনাগারটি বিশ্বের বৃহত্তম শোধনাগারগুলোর একটি। প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল শোধন করার সক্ষমতা রয়েছে এর। সক্ষমতার দিক থেকে এটি বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম শোধনাগার হিসেবে বিবেচিত।
আলিকো ডাঙ্গোটে ২০১৩ সালে প্রথম এই শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তখন প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সময় লাগে।
শোধনাগারটি নির্মাণ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ জমি ভরাট করতে হয়েছে। এ কাজে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার বালু সরানো হয়।
ডাঙ্গোটে এখন শেয়ার বিক্রি করে সংগ্রহ করা অর্থ শোধনাগারটির উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়াতে ব্যবহার করতে চান। প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
৬৭ বছর বয়সী আলিকো ডাঙ্গোটে নাইজেরিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তি। কানোতে জন্ম নেওয়া এই ব্যবসায়ীর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বলে জানিয়েছে ফোর্বস।
সিমেন্ট ও চিনি ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হন। পরবর্তী সময়ে নাইজেরিয়ার বাইরে আফ্রিকার আরও ১৬টি দেশে তাঁর ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠান ডাঙ্গোটে সিমেন্ট বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
তেল শোধনাগারের শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু বিপুল অর্থ সংগ্রহই হবে না, বরং নাইজেরিয়ার সাধারণ মানুষও দেশের অন্যতম বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে শোধনাগারের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতে ডাঙ্গোটে গোষ্ঠীর ভূমিকা আরও বাড়তে পারে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au