লালদিয়া টার্মিনাল সম্প্রসারণে কর্ণফুলীতে সংকটের আশঙ্কা
চট্টগ্রাম বন্দরের সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় নির্মাণ করা হচ্ছে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল। প্রকল্পটি বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর সক্ষমতা বাড়ানো, বড় জাহাজে পণ্য পরিবহন সহজ করা…
ব্রাজিলের জাতীয় দলের জার্সিতে নেইমারের অধ্যায় শেষ। বিশ্বকাপের পরই জাতীয় দলে আর না ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড। এবার তাঁর সেই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করলেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
সিএনএন এস্পোর্তেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, নেইমারের মতো একজন খেলোয়াড়ের মান বিবেচনায় তাঁকে বিশ্বকাপের দলে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু জাতীয় দলে ফেরার ইচ্ছা নেইমার নিজেই আর নেই বলে জানিয়েছেন।
আনচেলত্তির ভাষায়, ‘তার মানের কারণেই তার সেখানে (বিশ্বকাপে) থাকা উচিত ছিল। নেইমার নিজেই নিশ্চিত করেছে যে সে জাতীয় দলে আর ফিরতে চায় না। নেইমারের বিকল্প পাওয়া সম্ভব নয়, কারণ সে এক অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা।’
নেইমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রাজিল ফুটবলের একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, ড্রিবলিং, গোল করার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা ব্রাজিলের খেলায় বড় ভূমিকা রেখেছে। ফলে তাঁর জায়গা পূরণ করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন আনচেলত্তি।
তবে নেইমারের বিদায়ের পর কোনো একক তারকার ওপর নির্ভর না করে নতুন প্রজন্মের একটি দল গড়ে তুলতে চান ব্রাজিলের কোচ। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন থেকেই তরুণ ফুটবলারদের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে। এখন আমাদের এমন তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যারা ভবিষ্যৎ হতে পারে। যেমন ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়েরা।’
তরুণদের মধ্যে আরও কম বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও নজরে রাখছেন আনচেলত্তি। বিশেষ করে ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া কিছু ফুটবলারকে ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি।
ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘আমাদের ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া কিছু মানসম্পন্ন তরুণ আছে, যারা এখনো খেলছে না, তবে খেলতে পারবে। এখন তাদের বয়সকে গুরুত্ব দিয়ে এবং সম্মান জানিয়ে তাদের দিকে তাকানোর সময়।’
তবে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পক্ষে নন আনচেলত্তি। তাঁর মতে, বয়স বেশি হলেই কোনো খেলোয়াড় দলের জন্য অকার্যকর হয়ে যায় না। ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও একজন ফুটবলার সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভালো পারফর্ম করতে পারেন। কিন্তু ব্রাজিলের বর্তমান পরিকল্পনায় তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।
‘এটা সত্যি যে একজন খেলোয়াড় ৩৬ বা ৩৭ বছর বয়সেও খুব ভালো খেলতে পারে। তবে এখন তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সময়’, বলেন আনচেলত্তি।
ব্রাজিল ফুটবলের অন্যতম পুরোনো সমালোচনাও বদলাতে চান এই কোচ। ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে দলগত ফুটবলকে গুরুত্ব দিতে চান তিনি। তাঁর মতে, আধুনিক ফুটবলে শুধু কয়েকজন অসাধারণ খেলোয়াড় থাকলেই সাফল্য নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন শক্তিশালী দলীয় কাঠামো ও সমন্বয়।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আধুনিক ফুটবলে দলগত কাজটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ব্যক্তিগত প্রতিভা নয়। আপনার যদি দারুণ ব্যক্তিগত প্রতিভা থাকে, তবে জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকে, কিন্তু আধুনিক ফুটবলে দলগত কাজটা জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী দল গড়তে কাজ করছি, কোনো একক দুর্দান্ত ব্যক্তিগত প্রতিভার ওপর নির্ভর করার জন্য নয়।’
নেইমারের বিদায়ের পর ব্রাজিলের সামনে এখন নতুন চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতো একজন অনন্য প্রতিভার সরাসরি বিকল্প খোঁজার বদলে আনচেলত্তি দলীয় শক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাইছেন। ২০৩০ বিশ্বকাপের মধ্যে সেই নতুন প্রজন্মকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরিয়ে আনাই এখন ব্রাজিল কোচের বড় লক্ষ্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au