অস্ট্রেলিয়া

মহাবিপর্যয়ে তুলনামূলক নিরাপদ থাকবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড

  • 8:38 pm - September 15, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২০ বার
মহাবিপর্যয়ে তুলনামূলক নিরাপদ থাকবে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড।

পারমাণবিক যুদ্ধ, ভয়াবহ মহামারি, বিশাল কোনো গ্রহাণুর আঘাত কিংবা বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের মতো বৈশ্বিক দুর্যোগ দেখা দিলে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড তুলনামূলকভাবে নিরাপদ অবস্থানে থাকতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেশ দুটিকে বিশ্বের সম্ভাব্য ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাপ্যতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে বড় ধরনের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে পারে।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশই মহাবিপর্যয়ের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারবে না। একটি দেশের টিকে থাকার সক্ষমতা শুধু জাতীয় পর্যায়ের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে না, স্থানীয় কমিউনিটির প্রস্তুতি, সামাজিক সংযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কী ধরনের বিপর্যয়কে বৈশ্বিক ঝুঁকি বলা হয়?

যে কোনো ঘটনা বিশ্বের অন্তত ১০ শতাংশ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে, তাকে ‘গ্লোবাল ক্যাটাস্ট্রফিক রিস্ক’ বা বৈশ্বিক বিপর্যয়কর ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের ঝুঁকির মধ্যে সূর্যালোকের আকস্মিক হ্রাস, অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংস বা অচল হয়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জৈবিক হুমকি বা মহামারি অন্যতম।

গবেষক ম্যাট বয়েডের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু কল্পকাহিনি বা কল্পবিজ্ঞানের বিষয় নয়। অতীতে বড় মাত্রার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্রাজ্যের পতনের মতো ঘটনাও ঘটেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় বিপর্যয় আবারও ঘটতে পারে।

কোভিড-১৯ মহামারি বৈশ্বিক বিপর্যয়ের সংজ্ঞায় পুরোপুরি না পড়লেও এটি বিশ্বের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছিল।

কেন এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড?

গবেষকদের মতে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অন্যতম বড় সুবিধা তাদের ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্বের অন্যান্য বড় জনবসতি থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কিছু ধরনের যুদ্ধ, মহামারি বা অন্যান্য সংকটের প্রভাব দেশ দুটিতে তুলনামূলক দেরিতে পৌঁছাতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার বিশাল কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক সম্পদও সংকটের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশটির নিজস্ব খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতা এবং বিভিন্ন জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের মজুত দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক সংকটে কিছুটা সুবিধা দিতে পারে।

এর পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের তুলনামূলক স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সংকটের সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হতে পারে।

বড় শহরগুলোতে ঝুঁকি বেশি

গবেষণায় বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোকে অনেক ধরনের বৈশ্বিক বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এসব শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন পানি, খাদ্য, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও যোগাযোগের মতো আন্তঃনির্ভরশীল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

বড় কোনো দুর্যোগে এসব ব্যবস্থার একটি অংশ অচল হয়ে গেলে দ্রুত অন্য খাতেও তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন, বড় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা পারমাণবিক বিস্ফোরণের ফলে বায়ুমণ্ডলে ছাই ও কণা ছড়িয়ে সূর্যালোক কমে গেলে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

একইভাবে বড় ধরনের সাইবার হামলায় বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়তে পারে। আবার নতুন কোনো বৈশ্বিক মহামারি দেখা দিলে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।

গবেষকদের মতে, শুধু একটি দেশকে সামগ্রিকভাবে বিবেচনা করলেই বিপর্যয় মোকাবিলার পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক সংযোগও একটি অঞ্চলের টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়াতে পারে।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনেক অস্ট্রেলীয় বড় শহর ছেড়ে অপেক্ষাকৃত ছোট ও আঞ্চলিক এলাকায় চলে গিয়েছিলেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ উপকূলের বেগা ভ্যালি এর একটি উদাহরণ। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের এই অঞ্চলে রয়েছে একাধিক ছোট শহর ও গ্রাম।

বেগা ভ্যালির বাসিন্দা কেট সলিসের মতে, ওই এলাকার অন্যতম বড় শক্তি হলো মানুষের সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা। সংকটের সময়ে মানুষ একে অপরের ওপর নির্ভর করতে পারলে দুর্যোগের পর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সুবিধা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বড় দুর্যোগের আগে একটি কমিউনিটির মধ্যে সামাজিক সংহতি যত বেশি থাকে, দুর্যোগের পর সেই কমিউনিটির ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও তত বেশি। ফলে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বিপর্যয় মোকাবিলায় শুধু রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতি নয়, স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই শাখার আরও খবর

মৃতদেহ সংরক্ষণে নতুন আশা, অস্ট্রেলিয়ায় চলছে ক্রায়োনিক্সের পরীক্ষা

মৃত্যুর পর মানুষের দেহে কি কোনোদিন আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনা সম্ভব? বর্তমান বিজ্ঞান এখনো এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর দিতে পারেনি। তবে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি একদিন সেই…

কারাগারেই মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ করতে চান চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাবন্দি সনাতনী নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী কারাগারের ভেতরেই তার প্রয়াত মায়ের আদ্যশ্রাদ্ধ সম্পন্ন করতে চান। এ জন্য ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা পালনের…

এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বানে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি শেয়ারে ধস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান এবং এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তার পর বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় ধরনের দরপতন…

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার স্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশভিত্তিক একটি অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সম্ভাব্য শত্রুর হামলা থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী ও মহাকাশভিত্তিক…

এলচেকে হারিয়ে বার্সার কাছাকাছি যেতে চায় রিয়াল

লা লিগায় শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে রিয়াল মাদ্রিদ। মঙ্গলবার রাতে এস্তাদিও মার্তিনেস ভালেরোতে স্বাগতিক এলচের মুখোমুখি হবে তারা।…

পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও ভয়ংকর হতে পারে এআই, ফের সতর্ক ইলন মাস্ক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে আবারও সতর্ক করেছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। তাঁর আশঙ্কা, ভবিষ্যতে উন্নত এআই প্রযুক্তি পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au