তেজগাঁও কলেজের মসজিদে গোপন বৈঠক, জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ২৩
ঢাকার তেজগাঁও কলেজের মসজিদে গোপন বৈঠক করার সময় জঙ্গি সন্দেহে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বৈঠক চলাকালে তাদের…
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য কর্মসূচি নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা বাস্তবে কতটা পূরণ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কথিত ‘বোয়িং কূটনীতি’ চালানো হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর মূলত জাতিসংঘকেন্দ্রিকই থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার সুযোগ কমে এসেছে।
প্রতিবেদনটির দাবি অনুযায়ী, তারেক রহমান নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নির্ধারিত এলাকার বাইরে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না। ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোতে বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে না।
তবে এসব দাবির সঙ্গে সাম্প্রতিক বাংলাদেশি সরকারি সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনের কিছু পার্থক্য রয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ইতোমধ্যে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং তিনি ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক গিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। আগে ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিকল্পনা এবং নিউইয়র্কের পর সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল।
নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে না। সেখানে বলা হয়েছে, দুজন একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি ছবি তোলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের খলিলুর রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত
এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছিলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়ে থাকে এবং তারেক রহমানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তিনি এটিও বলেছিলেন যে এসব বৈঠক সাধারণত শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়।
১৮ সেপ্টেম্বরের সরকারি সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে অবশ্য ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বৈঠক চূড়ান্ত হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমান ট্রাম্পের আয়োজিত একটি নৈশভোজে অংশ নেবেন।
নর্থইস্ট নিউজের প্রতিবেদনে ‘বোয়িং কূটনীতি’ প্রসঙ্গটিও গুরুত্ব পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে বোয়িং গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সাম্প্রতিক বাংলাদেশি প্রতিবেদনেও ব্রেন্ডান নেলসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি নিউইয়র্ক সফরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সফরের সময় বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয়সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তি সই হতে পারে। এর আগে এপ্রিল মাসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার একটি চুক্তি সই করেছিল, যার মূল্য প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্য তুলে ধরবেন।
সফরকালে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধানের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-সাবাহ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ।
এ ছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গেও তার বৈঠকের কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের অধিবেশনের পাশাপাশি বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয়ে কয়েকটি অনুষ্ঠান আয়োজন করবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের সফরে বাংলাদেশের নতুন যাত্রা, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার, জলবায়ু অর্থায়ন, বিশ্বশান্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে।
সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের আকারও এবার তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফর সংক্ষিপ্ত করার পাশাপাশি প্রতিনিধিদলের আকার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা ছিল এবং নিউইয়র্কের পর সানফ্রান্সিসকো যাওয়ার প্রস্তুতিও চলছিল।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর মূলত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগ এবং বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয়সংক্রান্ত আলোচনা সফরটির কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au