জুমার নামাজের সময় পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাটে একটি মসজিদে গাড়িবোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও…
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় অন্তত তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও আটজন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে হামলাকারীও রয়েছে।
দেশটির শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, দক্ষিণ কোটাবাতো প্রদেশের বাঙ্গা পৌরসভার বাঙ্গা ন্যাশনাল হাইস্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রাদেশিক গভর্নর রেইনালদো তামায়ো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, নিহত তিনজনের মধ্যে হামলাকারীও রয়েছে। পরে বাঙ্গার মেয়র আলবার্ট পালেনসিয়া জানান, হামলাকারীর বয়স ১৬ বছর। আহত আটজনের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার শিকার শিক্ষার্থীদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
মেয়র পালেনসিয়া বলেন, হামলার আগে ওই কিশোর তার বন্ধুদের পাশে বসে তাদের বাড়ি চলে যেতে বলেছিল। সে নাকি বলেছিল, “দুপুরের খাবারের পর আমি আমার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।”
তবে বন্ধুদের কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কিশোর সাধারণত মজা করত বলে বন্ধুরা তার কথাকে ঠাট্টা হিসেবেই নিয়েছিল।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এবং এএফপি যাচাই করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি স্কুল থেকে আহত এক শিশুকে কোলে করে বাইরে নিয়ে আসছেন। পরে তাকে অপেক্ষমাণ একটি মোটরসাইকেলের সাইডকারে তোলা হয়।
আরেকটি ভিডিওতে স্থানীয় ভাষায় কথা বলতে শোনা যায় এক শিক্ষককে। সেখানে তিনি দুজন হামলাকারী থাকার কথা বলছিলেন। তবে এক শিক্ষার্থী দাবি করে, হামলাকারীরা স্কুলের বাইরের লোক।
ঘটনার পর বাঙ্গা পৌরসভার সব স্কুলের ক্লাস স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কার্যালয়।
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের স্কুলগুলোতে জুনের পর এ নিয়ে তৃতীয় বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে স্কুলে এ ধরনের হামলা দেশটিতে তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর চলতি মাসে দেশজুড়ে স্কুলগুলোতে বন্দুকধারী হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলায় মহড়া শুরু করা হয়েছে।
ঘটনাটি জুনের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে তৃতীয় স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা। | ছবি: এএফপি
গত মাসে জাম্বোয়াঙ্গায় একটি শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষার্থী আরেক শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করেছিল। পরে ওই শিক্ষার্থী নিজেও আত্মহত্যা করে।
জুনে তাকলোবান শহরের একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে দুই সহপাঠী ক্যাম্পাসে গুলি চালালে অন্তত তিন শিক্ষার্থী নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়।
এর কয়েক দিন পরই কোটাবাতোতে পৃথক এক বন্দুক হামলায় আরও তিনজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়। দেশটির মুসলিম মিন্দানাওয়ের বানসামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে প্রথম সংসদীয় নির্বাচন চলাকালে ওই হামলা হয়।
ফিলিপাইনে আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার ক্ষেত্রে তুলনামূলক কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। অস্ত্রের লাইসেন্স পাওয়ার আগে পটভূমি যাচাই ও মানসিক সক্ষমতা মূল্যায়নের মতো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তবে দেশটিতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এখনও রয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর অভিভাবকদের ঘরে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র শিশুদের নাগালের বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন গভর্নর তামায়ো।
রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে অস্ত্রের মালিকদের নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অপ্রাপ্তবয়স্করা সেগুলোতে প্রবেশাধিকার না পায়।”
তিনি আরও বলেন, “হাজারো শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাতে গোনা কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীর ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের জন্য খুব কঠিন হবে।”
সূত্র-এএফপি/রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au