যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ বক্সের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা পুলিশ বক্সের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান (২৬) নামে এক অটোরিকশাচালক আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানাধীন চৌরাস্তা…
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে পুলিশ লাইনস কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৮০ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে কোহাট পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদের কাছে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের পর হামলাকারীরা পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার চেষ্টা করে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গুলিবিনিময়ও হয়।
স্থানীয় জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাসির হাসান আফ্রিদি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনকে হতাহতের সর্বশেষ সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ জানিয়েছিল, বিস্ফোরণের পর আহতদের দ্রুত কাছের হাসপাতালে পাঠানো হয়। উদ্ধারকাজে ১৪টি অ্যাম্বুলেন্স এবং ৩৫ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী অংশ নেন।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ জানান, প্রাথমিকভাবে একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি পুলিশ কমপ্লেক্সের গেটে আঘাত করে। এরপর কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্টের (সিটিডি) ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। আরও কয়েকজন হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।
পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অংশ নেওয়া সাতজন হামলাকারী পুলিশ লাইনসে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিস্ফোরণের পরও কিছু সময় ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের গুলিবিনিময় চলে এবং কমপ্লেক্সে অভিযান অব্যাহত থাকে।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে একটি ভবনের দেয়াল ধসে পড়েছে। ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। সেখানে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সও দেখা যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়, বিস্ফোরণটি পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদের কাছে ঘটে। পরে পুলিশপ্রধান জানান, আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে কমপ্লেক্সের গেটে আঘাত করার পর হামলার পরিস্থিতি তৈরি হয়। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।
হামলার দায় স্বীকার করেছে হাফিজ গুল বাহাদুর নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন বলে ডন জানিয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো যাচাই ও তদন্তের মধ্যে রয়েছে।
ঘটনার পর খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাদেশিক গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার প্রতিবেদন চেয়েছেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
কোহাটে এর আগেও পুলিশ ও তাদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। ২০১০ সালে পুলিশ লাইনসের পাশের একটি পুলিশ কলোনিতে রিমোট কন্ট্রোল বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন পুলিশ সদস্যদের স্বজন।
শুক্রবারের হামলার পর কোহাট পুলিশ লাইনস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে হামলার ধরন, হামলাকারীদের পরিচয় ও তারা কীভাবে পুলিশ কমপ্লেক্সে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au