পাকিস্তানে বোমা হামলায় নিহত ২১ জনের ১৫ জনই পুলিশ
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে পুলিশ লাইনস কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।…
পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বহুতল বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ভবনটির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালানো হয়।
শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর কুলোনিয়া গ্রামের বিভিন্ন এলাকার লোকজন একত্র হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির দিকে যান। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বহুতল ভবনটির বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে ভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ও আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালানো হয়।
ভাঙচুরে অংশ নেওয়া স্থানীয় কয়েকজন বলেন, ১০ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তাঁরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তবে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের পরিবর্তে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার কথাও স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
ভাঙচুরের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ ছিল। তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হামলা ও ভাঙচুর ঠেকানো সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াছিন আলীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিখোঁজের সাত দিন পর মরদেহ উদ্ধার
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের পর শিশুটিকে খুঁজে পেতে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়রাও বিভিন্নভাবে তৎপরতা চালান।
নিখোঁজের সাত দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে পরিবারের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে শিশুটির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে।
দোকানের পেছনের ঘরে ধর্ষণের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
পুলিশের দাবি, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে নিয়ে কলিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ একটি বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ আরও দাবি করেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। এমনকি কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য এলাকাবাসীর উদ্যোগে পরিচালিত তল্লাশি কার্যক্রম ও মানববন্ধনেও আসামিরা অংশ নিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজেদের সম্পৃক্ততা আড়াল করতেই তাঁরা অন্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার কাজে অংশ নেন। তবে তদন্তের এই তথ্য আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এটিকে অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে। শুক্রবার সেই ক্ষোভ থেকেই মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, মামলার তদন্তভার ডিবির কাছে যাওয়ার পর গ্রেপ্তার দুই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিশুটিকে হত্যার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au