বাংলাদেশ

২০ সেপ্টেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের কাউন্টডাউন শুরু

  • 4:47 pm - September 19, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৭২৯ বার
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের কাউন্টডাউন শুরু। ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় আগামীকাল রোববার ‘লকডাউন’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠন যুবলীগ। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর দিনব্যাপী এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ প্রথমে কর্মসূচির ঘোষণা দিলেও পরে দলটির পক্ষ থেকে এতে একাত্মতা প্রকাশ করে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।

দলীয় প্রচার ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলা ও আদালতের বিভিন্ন রায়ের প্রতিবাদ এবং আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর যুবলীগের পক্ষ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে ১৬ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের কথাও জানানো হয়েছিল।

যুবলীগের প্রচারিত কর্মসূচির ঘোষণায় সাম্প্রতিক আদালতের রায়কে প্রত্যাখ্যান করার কথা বলা হয়েছে। সংগঠনটি এসব রায়কে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং এর সবকটি দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

পরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যুবলীগের ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়। দলটির পক্ষ থেকে সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের কর্মসূচি সফল করার জন্য মাঠে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচারপ্রক্রিয়া চালাচ্ছে এবং দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাজা দেওয়া হচ্ছে। দলটি এসব মামলা ও রায় প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা নিজেদের ভাষায় ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা’র দাবিও জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রচারিত বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার আহ্বান জানানো হয়েছে। দলটির সহযোগী সংগঠনগুলোকেও রাজধানীর কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কর্মসূচির সঙ্গে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার বিষয়টিও দলীয় প্রচারে গুরুত্ব পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ডিসেম্বরকে ঘিরে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তাঁর দেশে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ বা এমন কোনো প্রত্যাবর্তন পরিকল্পনা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিষয়টিকে দলীয় আলোচনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ১৮ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে নির্ধারিত বৈঠক নিয়েও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত বৈঠকটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয় এবং কোনো কারণ জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ২১ জন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে শেখ হাসিনার দিল্লিতে সরাসরি বৈঠক হওয়ার দাবি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটি ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন নেতা বিদেশ থেকে ভার্চুয়ালভাবেও বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। ফলে বৈঠকটি আদৌ অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না এবং বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে।

তবে ২০ সেপ্টেম্বরের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা বৈঠকের আগেই যুবলীগের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রচারিত ঘোষণায় ২০ সেপ্টেম্বর রোববার ঢাকায় এই কর্মসূচি পালনের কথা বলা হয়। তাই কর্মসূচিটির ঘোষণা শেখ হাসিনার ১৮ সেপ্টেম্বরের কথিত বৈঠকের পর নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্যের সঙ্গে প্রকাশিত সময়ক্রমের মিল নেই।

‘লকডাউন’ কর্মসূচি বলতে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও যান চলাচল ব্যাহত করার মতো কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছে। তবে রোববার বাস্তবে রাজধানীর যান চলাচল, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের চলাচলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

এবারের কর্মসূচিকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও, বাবুবাজার, মগবাজার ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং কাফরুল থানার সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চিত করেনি।

রাজধানীতে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর রোববারের কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কর্মসূচির দিন কী ধরনের সরকারি বা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে দলটির ঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে আইনগত ও নিরাপত্তাগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি কতটা বিস্তৃত হয়, রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় এর কী প্রভাব পড়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

এই শাখার আরও খবর

শরীয়তপুরের কলেজের কনসার্টে শেখ হাসিনা ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সরকারি শামসুর রহমান কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার…

বিএনপির কর্মসূচিতে বেজে উঠল শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা গান

চট্টগ্রাম নগর বিএনপির ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত প্রচারণা কর্মসূচিতে মাইকে বেজে উঠেছে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা গান ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা…

শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ সম্বোধন, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সভায় দুই দফা হট্টগোল

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় ব্যানারে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে হট্টগোল হয়েছে। পরে…

বাংলাদেশ-পাকিস্তান থেকে যাওয়া সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দিতে তোড়জোড় পশ্চিমবঙ্গে

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন…

শেখ হাসিনার নিরাপত্তার উদ্যোগ নিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ৬ এমপির চিঠি

বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থার রাজনীতিকরণ বন্ধ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরার আগে তাঁর আইনি ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের…

৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ হুজুরের, গ্রেপ্তারের পর কারাগারে

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  নরসিংদীর মনোহরদীতে মক্তবে আরবি পড়তে গিয়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে আট বছর বয়সী এক শিশুশিক্ষার্থী। শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মক্তবের শিক্ষক…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au