স্প্যানিশ লিগে বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে বার্সেলোনা। ছবি: সংগৃহীত
লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচেই জয় পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। এই ছয় ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২৮ বার বল পাঠিয়েছে তারা। এমন গোলের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১১-১২ মৌসুমে হোসে মরিনিওর অধীনে রিয়াল মাদ্রিদের গড়া লা লিগার এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত লিগে খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়নি বার্সেলোনাকে। ঘরের মাঠ কিংবা প্রতিপক্ষের মাঠ, দুই জায়গাতেই গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে দলটি।
ফ্লিক নিজে অবশ্য ব্যক্তিগত বা দলীয় রেকর্ড নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না। তবে বার্সেলোনার বর্তমান গোল করার হার তাদের সামনে রিয়ালের ১৪ বছর আগের রেকর্ডকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
২০১১-১২ মৌসুমে হোসে মরিনিওর অধীনে লা লিগায় অবিশ্বাস্য এক মৌসুম কাটিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ৩৮ ম্যাচে তারা করেছিল ১২১ গোল। ম্যাচপ্রতি গড় ছিল ৩.১৮ গোল, যা এখনো লিগের এক মৌসুমে রিয়ালের সর্বোচ্চ গোলসংখ্যার রেকর্ড।
সেই মৌসুমে রিয়াল প্রথমবারের মতো লিগে ১০০ পয়েন্টও অর্জন করেছিল। দলের গোল উৎসবে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর। পর্তুগিজ তারকা করেছিলেন ৪৬ গোল। গঞ্জালো হিগুয়েইন ২২ এবং করিম বেনজেমা করেছিলেন ২১ গোল।
৩৮ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে হেরেছিল রিয়াল। লেভান্তের বিপক্ষে ১-০ এবং বার্সেলোনার বিপক্ষে ৩-১ গোলে পরাজিত হয়েছিল তারা।
তবে সব ম্যাচে গোলের দেখা পায়নি দলটি। রেসিং সান্তান্দার ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে গোল করতে পারেনি রিয়াল। মালাগা ও ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ড্রও করেছিল তারা। সেবার ওসাসুনার বিপক্ষে ৭-১ গোলের জয় ছিল তাদের সবচেয়ে বড় জয়।
১৪ বছর পর সেই রেকর্ডের কাছাকাছি যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বার্সেলোনা। প্রথম ছয় ম্যাচে ফ্লিকের দল করেছে ২৮ গোল। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি তাদের গোলের গড় ৪.৬৭।
এলচেকে ৫-০ গোলে হারিয়ে মৌসুম শুরু করার পর অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বার্সা। এরপর রায়ো ভায়েকানো ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে করেছে পাঁচটি করে গোল। লেভান্তেকে ৪-২ এবং রেসিং সান্তান্দারকে ৭-২ গোলে হারিয়েছে কাতালানরা।
সব মিলিয়ে ছয় ম্যাচে ছয় জয়, ২৮ গোল এবং প্রতিপক্ষের জালে ধারাবাহিকভাবে বল পাঠানোর ক্ষমতা বার্সেলোনার আক্রমণভাগের শক্তিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বার্সেলোনার গোল উৎসবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাফিনিয়া। ছয় ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের গোলসংখ্যা নয়।
তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গোল করে চলেছেন লামিন ইয়ামালও। ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখন পর্যন্ত সাত গোল করেছেন। টানা চার ম্যাচে গোল করেছেন তিনি।
ফলে শুধু দলীয় গোলসংখ্যাই নয়, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও বার্সেলোনার আক্রমণভাগ দারুণ ছন্দে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিরতির আগে সেভিয়ার মাঠ রামোন সানচেজ পিজুয়ানে খেলবে বার্সেলোনা। গত মৌসুমে এই মাঠেই সেভিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হেরেছিল কাতালান ক্লাবটি।
এবার অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। ছয় ম্যাচের ছয় জয় এবং ২৮ গোল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে ফ্লিকের দল।
তবে রিয়ালের ১২১ গোলের রেকর্ড ভাঙতে হলে পুরো মৌসুমে এই গোলের গতি ধরে রাখতে হবে বার্সেলোনাকে। লা লিগার এখনও অনেকটা পথ বাকি। তাই ছয় ম্যাচের পরের এই হিসাব শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।