যাত্রাবাড়ীতে পরপর পাঁচ ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক
ঢাকার যাত্রাবাড়ী মোড়ে পরপর পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সন্ধ্যায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায়…
অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পার্থের সরেন্টো বিচে হাঙরের হামলায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহত ৬৩ বছর বয়সী গ্রেগ জেমস ও’নিলকে একজন নিবেদিতপ্রাণ পরিবারের মানুষ ও সমুদ্রপ্রেমী হিসেবে বর্ণনা করেছে তার পরিবার।
শুক্রবার সকালে পার্থের উত্তর উপকণ্ঠের সরেন্টো বিচের তীরের কাছাকাছি সাঁতার কাটার সময় বড় একটি গ্রেট হোয়াইট হাঙরের হামলার শিকার হন গ্রেগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখের সামনেই ঘটে ভয়াবহ এ হামলা।
এক বিবৃতিতে গ্রেগের পরিবার জানায়, তার মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত ও বিধ্বস্ত।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, “বাবা, শিগগিরই দাদু হতে যাওয়া একজন মানুষ, ভাই, চাচা, স্বামী ও বন্ধু গ্রেগ জেমস ও’নিলকে হারানোর এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমাদের পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।”

এবিসি গ্রেগ ও’নিলের যেসব ছবি প্রকাশ করেছে, সেগুলো সবই তার পরিবারের সরবরাহ করা। ছবিতে বাঁ পাশে গ্রেগ ও’নিল। (পরিবারের সৌজন্যে)
তারা আরও বলেন, গ্রেগ ছিলেন উদার ও পরিবারের প্রতি নিবেদিত একজন মানুষ। সন্তানদের তিনি ভালোবাসা, যত্ন ও জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। সমুদ্রের প্রতি তার ছিল গভীর ভালোবাসা। তিনি নিয়মিত সাঁতার কাটতেন, খেলাধুলা পছন্দ করতেন এবং কর্মজীবনেও ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্বশীল। পরিবার ও বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন রসিক ও উদার মনের মানুষ।
গ্রেগের পরিবারের পক্ষ থেকে যারা তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

গ্রেগ ও’নিল (ডানে) একজন উৎসাহী সাঁতারু ও উদার মনের মানুষ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। (পরিবারের সৌজন্যে)
গ্রেট হোয়াইট হাঙরটিকে ধরতে এবং প্রয়োজনে হত্যা করতে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার মৎস্যমন্ত্রী জ্যাকি জার্ভিস। হামলার পর প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ হাঙরটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
তবে এ ঘটনার পর পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সমুদ্রসীমায় ব্যাপক হাঙর নিধনের নির্দেশ দিতে রাজি হননি মন্ত্রী। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের পদক্ষেপ উপযুক্ত হবে না।
কর্তৃপক্ষ হাঙরটির সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে গ্রেগের মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে। নিরাপত্তার কারণে পার্থের উত্তর উপকণ্ঠের বেশ কয়েকটি সৈকত বন্ধ রাখা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে প্রাণঘাতী হাঙরের হামলার পর শনিবারও সরেন্টো বিচ বন্ধ ছিল। (এবিসি নিউজ: কোর্টনি উইদার্স)
এদিকে গ্রেগের শোকাহত পরিবারের সদস্যরা শনিবার সরেন্টো বিচে যান। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনাস্থলে ফুল দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ নিয়ে চলতি বছরে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের হামলায় তৃতীয় ব্যক্তির মৃত্যু হলো। একই সপ্তাহে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হামলা। ঘটনাটি সমুদ্রসৈকতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
জ্যাকি জার্ভিস বলেন, হামলাকারী হাঙরটি সাঁতরে চলে যাওয়ার আগে ওয়াটার পুলিশের সদস্যরা সেটিকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করেছিলেন। হামলার পরিস্থিতি, হাঙরটির সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং তদন্তের প্রয়োজনে আলামত উদ্ধারের বিষয় বিবেচনা করেই তিনি ধরার ও হত্যার অনুমতি দিয়েছেন।
হাঙর ধরতে শুক্রবার বিশেষ সরঞ্জামও মোতায়েন করা হয়েছিল। সাধারণত হাঙরকে শনাক্ত ও ট্যাগ করার কাজে ব্যবহৃত এক ধরনের ড্রাম লাইনভিত্তিক এই সরঞ্জাম দিয়ে গ্রেট হোয়াইট হাঙরটিকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের কারণে শনিবার সরঞ্জামটি স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
জার্ভিস জানান, গত ১০ বছরে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় সম্ভবত এই প্রথম কোনো হাঙরকে ধরার পাশাপাশি হত্যার এমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সব গ্রেট হোয়াইট হাঙর নিধনের মতো ব্যাপক কোনো কর্মসূচি নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, “গ্রেট হোয়াইট হাঙর আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত একটি প্রজাতি।”
তার ভাষায়, সমুদ্রের সব শীর্ষ শিকারি প্রাণীকে নিধনের পুরোনো ধারণায় ফিরে যাওয়ার কোনো প্রশ্ন নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, মানুষের নিরাপত্তার সব ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয় এবং তিনি কাউকে নিরাপত্তা নিয়ে “মিথ্যা নিশ্চয়তা” দিতে চান না।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় হাঙরের ঝুঁকি কমাতে বর্তমানে হাঙরকে ট্যাগ ও ট্র্যাক করা, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া, সতর্কতামূলক সাইরেন, হাঙর প্রতিরোধী এনক্লোজার এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের মতো ব্যবস্থা রয়েছে।
গ্রেগের মৃত্যুর পর এসব ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জার্ভিস।
তিনি বলেন, জরুরি সেবা ও পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে হাঙরের ঝুঁকি কমাতে আরও কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে।
উপকূলীয় এলাকায় হাঙর শনাক্ত করতে আরও ড্রোন মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার সরকার সার্ফ লাইফ সেভিং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ক্লাবকে বিশেষ অনুষ্ঠান, বিশেষ করে শিশুদের অংশগ্রহণ থাকা কার্যক্রমে ড্রোন ব্যবহারের জন্য অর্থায়ন করে।
হাঙর শনাক্তকরণ ও ট্যাগিং কর্মসূচিও বাড়ানো যায় কি না, তা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় এখন পর্যন্ত ৩০০টির বেশি হাঙর ট্যাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২২৭টি গ্রেট হোয়াইট হাঙর।
জার্ভিস জানান, ২০১৮ সালে প্রকাশিত সিএসআইআরওর এক প্রতিবেদনে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় পানিতে প্রায় ১,৫০০টি গ্রেট হোয়াইট হাঙর থাকার হিসাব দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে নতুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।
সরেন্টো বিচের উত্তর প্রান্তে থাকা হাঙর প্রতিরোধী একটি বেড়া ২০২০ সালে সরিয়ে নেয় জুন্ডালাপ কাউন্সিল। কাঠামোগত ত্রুটি এবং মেরামতের জন্য বিপুল খরচের প্রয়োজন হওয়ায় সেটি সরানো হয়েছিল।
বেড়াটি আবার স্থাপন করা যায় কি না, জানতে চাইলে জার্ভিস বলেন, স্থানীয় কাউন্সিল এ বিষয়ে আগ্রহী হলে তিনি বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত।
তিনি জানান, স্থানীয় সরকারগুলো চাইলে সৈকতে এনক্লোজার স্থাপনের জন্য সরকারি অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ওভেন ভ্লাদিচ বলেন, তীরের এত কাছাকাছি প্রাণঘাতী হাঙরের হামলার ঘটনায় পুরো কমিউনিটি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের ছোট উপকূলীয় এলাকায় বাড়ির এত কাছে এমন ঘটনা ঘটায় আমরা ভীষণভাবে বিধ্বস্ত। আর শুধু স্থানীয়রাই নন, এই সুন্দর জায়গায় বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসেন।”
ঘটনার সময় সৈকতে থাকা সার্ফার ক্রেগ হুপারও শনিবার সেখানে ফিরে এসে ফুল দেন। তিনি জানান, গ্রেগকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না, তবে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ফুল নিয়ে এসেছেন।
হুপার বলেন, হামলার সময় তিনি ওই সৈকতেই সার্ফিং করছিলেন। জনপ্রিয় এই উপকূলে শিশুদেরও নিয়মিত সার্ফিং করতে দেখা যায়।
“ঘটনাটি খুব কাছ থেকে নাড়া দিয়েছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। রাতে আমি বেশ অস্থির ছিলাম,” বলেন তিনি।
হিলারিসের বাসিন্দা ব্রিড হাচিনসন বলেন, গ্রেগের মৃত্যুর পর স্থানীয়দের কাছে সরেন্টো বিচের ধারণাই বদলে যাবে। তার মতে, হামলার পর সৈকতজুড়ে এক ধরনের বিষণ্নতা নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, “এটাই আমাদের স্থানীয় সৈকত। ছেলেরা এখানে সার্ফ ক্লাবে যেত।”
সাঁতারুদের আবার পানিতে নামার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার প্রশ্ন, “আমাদের কী প্রয়োজন? আরও ড্রোন, নাকি সৈকতে টহলের পদ্ধতিতে পরিবর্তন? ঘটনাটি তীরের এত কাছাকাছি ঘটেছে। নিশ্চয়ই কোনো কারণে হাঙরগুলো উপকূলের এত কাছে আসছে।”
গ্রীষ্ম মৌসুম সামনে রেখে মাত্র এক সপ্তাহ আগে সার্ফ লাইফ সেভিং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া সপ্তাহান্তে হেলিকপ্টারে হাঙর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছিল। তবে নিয়মিত দৈনিক টহল শুরু হওয়ার কথা আগামী সপ্তাহ থেকে।
এদিকে জুন্ডালাপ সিটির অধীন মারমিয়ন থেকে ইলুকা পর্যন্ত সব সৈকত আপাতত বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি মূল্যায়ন শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পার্থ মহানগর এলাকায় এক বছরে হাঙরের হামলায় এত বেশি মৃত্যুর ঘটনা সর্বশেষ এক দশক আগে দেখা গিয়েছিল।
চলতি বছরের প্রথম দিকে রটনেস্ট দ্বীপের কাছে হাঙরের হামলায় স্টিভেন ম্যাটাবোনি মারা যান। এর কয়েক সপ্তাহ পর অ্যালবানির কাছে স্পিয়ারফিশিং করতে গিয়ে ড্যানিয়েল টারপিনও হাঙরের হামলায় নিহত হন।
এর আগে জেরাল্ডটনের একটি সৈকতে ৫৬ বছর বয়সী দমকলকর্মী মেল ইসমাইল হাঙরের হামলায় আহত হন।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় একই বছরে হাঙরের হামলায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনা সর্বশেষ ঘটেছিল ২০২০ সালে। সে বছর এসপেরেন্স উপকূলে দুজন এবং ব্রুমের কেবল বিচের কাছে আরেকজন প্রাণ হারান।
সূত্র-এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au