ফ্লিকের বার্সেলোনার কাছে রিয়ালের গোলের রেকর্ড হারানোর শঙ্কা
লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা। মৌসুমের প্রথম ছয় ম্যাচেই জয় পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। এই ছয় ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ২৮ বার বল পাঠিয়েছে…
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হত্যার ঘটনায় কিছু ক্লু পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে শুধু আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণও জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, অপ্রতীম হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘আমার একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি। আমাদের কাছে একজন ব্যক্তি আছে, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এটা কী শুধুই একটা আইফোন ছিল, নাকি এর সঙ্গে আরও অন্য কিছু যুক্ত ছিল, বিষয়টি আমরা সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব। প্রকৃত যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় বসবাস করত সে।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতীম। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি সে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
সন্ধ্যার পরও অপ্রতীম বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
অপ্রতীমের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রাও মাঠে নামেন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু নাঈম বলেন, অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর রাতভর তাকে খোঁজা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আমাদের ছেলেরা ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে খোঁজার চেষ্টা করেছেন। সারারাত আমরা দলে দলে ভাগ হয়ে খুঁজেছি।’
অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও যাচাই করা হয়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করিম জানান, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অপ্রতীমকে দেখা যায়। তার সঙ্গে ক্যাপ পরা আরেক ব্যক্তিকেও দেখা গেছে।
উপাচার্যের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি অপ্রতীমের চেয়ে বয়সে বড় এবং তার চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানানো হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিখোঁজের প্রায় একদিন পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জঙ্গলে কাজ করতে এসে মরদেহ দেখতে পান এলাকার এক বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত
ওই এলাকায় কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় যুবক মোহাম্মদ আব্দুল কাদির জ্বিলানী প্রথম মরদেহটি দেখতে পান।
তিনি বলেন, ‘আমার ভাতিজা প্রথমে জঙ্গলে একটা বাচ্চাকে পড়ে থাকতে দেখে। আমাকে বললে কাছে এসে দেখি বাচ্চাটা পড়ে আছে, মাথায় রক্ত। দেখে আমরা ভয় পেয়ে কাজ ফেলে চলে গেছি।’
পরে স্থানীয়রা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে খবর দিলে দুপুরের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের খবরে ভিড় করেন উৎসুক সাধারণ মানুষ। ছবি: সংগৃহীত
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
পুলিশ বলছে, অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এর সঙ্গে অন্য কোনো কারণ বা ব্যক্তি জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
অপ্রতীমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হওয়ায় ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন।
মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এদিকে নিহত অপ্রতীমের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে যে কয়টা করুণ মৃত্যু দেখেছি, তার মধ্যে এটি একটি। এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে আগামী তিন মাসের মধ্যে যাতে বিচারকার্য সম্পন্ন হয়, আমি এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করব।’
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং এতে আর কেউ জড়িত কি না, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া গেছে এবং একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au