পুলিশের অভিযোগ, অ্যাশলি অ্যান সিনি বন্দুকধারীর জন্য নজরদারি করেছিলেন এবং তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ভুল পরিচয়ের শিকার হয়ে এক নিরপরাধ ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে বন্দুকধারীকে পালাতে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় ওই শিক্ষক বন্দুকধারীর জন্য নজরদারি করছিলেন এবং পরে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।
নিহত ব্যক্তির নাম জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ড। ৪০ বছর বয়সী ম্যাকডোনাল্ডকে গত ২ সেপ্টেম্বর সিডনির মেরিল্যান্ডস ওয়েস্ট এলাকার একটি বাড়ির ড্রাইভওয়েতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ বলছে, ভুল পরিচয়ের কারণে তাকে টার্গেট করা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর এ ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ওই নারীর নাম অ্যাশলি অ্যান সিনি। তিনি ক্যাম্পবেলটাউনের কাছের এয়ার্ডস হাই স্কুলের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক এবং একজন ইয়ার কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
শুক্রবার বিকেলে উলংগংয়ের একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি বন্দুকধারীর জন্য নজর রাখছিলেন এবং পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ব্রুস স্ট্রিটের ওই বাড়ির সামনে ছিলেন ম্যাকডোনাল্ড। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

২৮ বছর বয়সী ওই নারী সিডনির বাসিন্দা জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে গুলি করে হত্যার সময় নজরদারি করেছিলেন বলে অভিযোগ।
ছবি: সরবরাহকৃত
প্রতিবেশীরা পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শুনেছেন বলে পুলিশকে জানান। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ আটটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর একটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ড্রাইভওয়েতে পড়ে ছিলেন ম্যাকডোনাল্ড। ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্যারামেডিকরা তাকে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ডের সঙ্গে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কোনো যোগসূত্র ছিল না।
গ্রেপ্তার অ্যাশলি অ্যান সিনির বিরুদ্ধে হত্যার পর অপরাধীকে সহায়তা, একটি অপরাধী চক্রের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণে প্রবেশের বিষয়ে পুলিশের নির্দেশ না মানার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের সময় সিনি বন্দুকধারীর জন্য নজরদারি করেছিলেন এবং পরে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।
তাকে উলংগং পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। পরে জামিন আবেদন নাকচ করা হয়। স্থানীয় আদালতে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে।
তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে নিশ্চিত অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সিনির গ্রেপ্তারের বিষয়ে নিউ সাউথ ওয়েলসের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, পুলিশ তদন্ত চলাকালে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
৯নিউজকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে শিক্ষা বিভাগ বলেছে, তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তদন্তে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
ম্যাকডোনাল্ড হত্যার ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
ম্যাকডোনাল্ড চলতি মাসের শুরুতে সিডনিতে ভুল পরিচয়ের কারণে হত্যার শিকার হওয়া দুই নিরপরাধ ব্যক্তির একজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তার হত্যার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২৩ বছর বয়সী মার্কো তাপিয়াকেও গুলি করে হত্যা করা হয়। তাকেও ভুল পরিচয়ের কারণে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
সিডনির দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সংঘটিত কয়েকটি পরস্পর-সম্পর্কিত গুলির ঘটনার তদন্তে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন কিশোর।
তাদের মেলবোর্নভিত্তিক একটি কথিত অপরাধচক্রের সদস্য বলে দাবি করেছে পুলিশ। পরে তাদের সিডনিতে নিয়ে এসে সংশ্লিষ্ট গুলির ঘটনাগুলো নিয়ে অভিযোগ আনা হয়।
পুলিশের দাবি, এসব ঘটনায় ব্যবহৃত একটি আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে মার্কো তাপিয়ার হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে।
তবে জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ড কেন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সূত্র: নাইন.কম.এইউ