অযোধ্যায় অমিতাভের ধর্মশালা! ছবি: সংগৃহীত
অযোধ্যায় ধর্মশালা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন। প্রস্তাবিত ধর্মশালাটির নাম তাঁর বাবা ও বিশিষ্ট কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের নামে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে নির্মাণের নকশা জমা দিয়ে অনুমোদনের আবেদন করেছেন অভিনেতা।
অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সহ-সভাপতি অনুরাগ জৈন মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ধর্মশালায় ২০টিরও বেশি কক্ষ থাকতে পারে। অযোধ্যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হবে।
অনুরাগ জৈন বলেন, অযোধ্যার উন্নয়নে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অবদান রয়েছে। অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনও এ কাজে যুক্ত হয়েছেন। ধর্মশালা নির্মাণের নকশা অনুমোদনের জন্য তিনি আবেদন করেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধর্মশালা নির্মাণের প্রস্তাবটি প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে কারও কোনো আপত্তি বা মতামত থাকলে তা জানানোর সুযোগ থাকে। নির্ধারিত সময়সীমা শেষে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করা হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অমিতাভ বচ্চনের অযোধ্যায় কেনা জমিতেই ধর্মশালাটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, দূরদূরান্ত থেকে অযোধ্যায় আসা পুণ্যার্থীদের জন্য সুশৃঙ্খল আবাসনের ব্যবস্থা করতে এই উদ্যোগ সহায়ক হবে।

অযোধ্যায় পর পর জমি কিনেছেন অমিতাভ। ছবি: সংগৃহীত
অযোধ্যায় একাধিক জমি কিনেছেন অমিতাভ
রামমন্দির নির্মাণের পর অযোধ্যা অমিতাভ বচ্চনের আগ্রহের অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে সেখানে একাধিক জমি কিনেছেন তিনি।
সম্প্রতি রামমন্দির থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের দূরত্বে ২ দশমিক ৬৭ একর জমি কিনেছেন অমিতাভ। জমিটির মূল্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত ধর্মশালাটি এই জমিতেই নির্মাণ করা হবে।
এর আগে রামমন্দিরের কাছাকাছি ‘সরযূ’ নামের আবাসনে প্রায় ২৫ হাজার বর্গফুটের একটি জমি কেনেন তিনি। সেখানে তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি রামজন্মভূমি মন্দির উদ্বোধনের আগে ৫ হাজার ৩৭২ বর্গফুটের আরেকটি জমি কেনেন অমিতাভ। ওই জমির জন্য তিনি প্রায় ৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা খরচ করেন। পরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও একটি জমি কেনার খবর প্রকাশিত হয়।
রামমন্দির উদ্বোধনের সময় অমিতাভ বচ্চন অযোধ্যাকে সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার গুরুত্বপূর্ণ পীঠস্থান হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে ভবিষ্যতে জীবনের বাকি সময় অযোধ্যায় কাটাবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি।
সূত্র:আনন্দবাজার.কম