জাপানে ধেয়ে আসছে টাইফুন দুজুয়ান
জাপানের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘দুজুয়ান’। এর প্রভাবে দেশটির পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে কানতো অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি ও প্রচণ্ড ঝোড়ো হাওয়া…
খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে মেসের ম্যানেজার মেহেদী হাসানের নাম বলা হলেও মামলার এজাহারে তার নাম নেই। এ ঘটনায় রোববার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
নিহত আজমুল হোসেন ছিলেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড়সলুয়া গ্রামে। গত শুক্রবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের কাছের ইসলামনগর এলাকার একটি মেসে তাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন শনিবার রাতে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে নাম উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে।
এজাহারে নাম থাকা চারজন হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের ব্যাচ-১৭-এর রবিন, একই বিভাগের ব্যাচ-১৯-এর মবিন, গণিত বিভাগের ব্যাচ-১৯-এর সাগর এবং এগ্রো টেকনোলজি বিভাগের ব্যাচ-২৬-এর ওবায়দুল। তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
মামলার বাদী কুতুব উদ্দিনের দাবি, মেহেদী হাসানের নাম ভুলবশত এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি। তিনি এখন মামলায় মেহেদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করতে চান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে মেহেদীকে ওই মেসের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত এবং গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে মেসে অন্যের খাবার না জানিয়ে খাওয়াকে কেন্দ্র করে আজমুলের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ হয়। পরে তার বিরুদ্ধে খাবার চুরির অভিযোগ তোলা হয়। একপর্যায়ে তাকে মেসের ছাদে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন জানান, ঘটনার আগে রাত ৯টার দিকে আজমুল তাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তিনি ভালো আছেন। পরে গভীর রাতে তার ফোন নম্বর ব্যবহার করে একজন তাকে ফোন দিয়ে এক লাখ টাকা নিয়ে আসতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই ছেলেকে মারধরের খবর পান বলে জানান কুতুব উদ্দিন।
এদিকে আজমুলের মৃত্যুর ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। তদন্তের স্বার্থে এজাহারে থাকা আসামিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাকেও মামলায় যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। রোববার পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au