নেত্রকোণার এন আকন্দ কামিল মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হকের বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোণার এন আকন্দ কামিল মাদরাসার প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হকের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজে ওই নারীর সঙ্গে শিক্ষকের ঘনিষ্ঠ অবস্থানের দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিযোগের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং বহিষ্কারের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১৭ আগস্ট বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে একটি কক্ষে বোরকা পরা এক নারীর সঙ্গে টেবিলের দুই পাশে বসে কথা বলতে দেখা যায় মাওলানা এহসানুল হককে। কয়েক মিনিট পর তিনি ওই নারীর চেয়ারের পেছনে যান এবং কিছু সময় সেখানে অবস্থান করেন।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, বেলা ১১টা ৪৪ মিনিটের দিকে তিনি ওই নারীর কাছে গিয়ে দাঁড়ান। এরপর কয়েকবার তাঁর পাশে ও পেছনে গিয়ে ঘনিষ্ঠ অবস্থানে থাকেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, এ সময় তাঁকে ওই নারীকে স্পর্শ করতেও দেখা যায়।
এর দুই দিন পর ২০ আগস্ট দুপুর ১২টা ১৯ মিনিটের আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজেও ওই নারী ও শিক্ষককে একই কক্ষে দেখা যায় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাদরাসার একাধিক শিক্ষক জানান, সিসিটিভির লাইভ মনিটরিংয়ের সময় তাঁরা বিষয়টি দেখতে পান। তাঁদের ভাষ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে একজন শিক্ষকের এমন আচরণ অনভিপ্রেত এবং প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর।
প্রভাষক নাজনিন নাহার বলেন, ছুটির পর অফিস কক্ষের মনিটরে তিনি একটি কক্ষে এক নারী ও পুরুষের ‘অপ্রীতিকর আচরণ’ দেখতে পান। পরে বিষয়টি সহকর্মী মুবাশশেরা ম্যাডামকে দেখান। কিছুক্ষণ পর ওই নারী ও শিক্ষক কক্ষ থেকে বের হলে তাঁর সহকর্মীও বিষয়টি দেখতে পান বলে জানান তিনি।
শিক্ষক মেহেবুবে আলম জেবিন বলেন, ‘সিসিটিভিতে যা দেখলাম, তা জনসমক্ষে বলার মতো নয়। একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বহিষ্কারের মতো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আরও তদন্তের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওলানা এহসানুল হক। তাঁর দাবি, সহকর্মী মো. হেদায়েত উল্ল্যাহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে তাঁকে হেনস্তা করছেন।
অন্যদিকে মো. হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, এক নারী শিক্ষকের অনুরোধে তিনি বিষয়টি দেখার চেষ্টা করেন এবং পরে অধ্যক্ষকে অবহিত করেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়ার কারণেই এখন উল্টো তাঁকেই অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার ভিডিও ফুটেজের সত্যতা, এর উৎস এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশ।