অগ্নিঝরা প্রীতিলতা: পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রথম বাঙালি নারী শহীদ
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে যে কজন বিপ্লবীর নাম সাহস, আত্মত্যাগ ও দুর্জয় প্রত্যয়ের প্রতীক হয়ে আছে, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার তাঁদের অন্যতম। তিনি শুধু একজন বিপ্লবী নারী…
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সুযোগ হারানো সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। বিচারক টিমোথি কেলি ১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের প্রেস পাস ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তিনি এসব গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন। পরে সংশ্লিষ্ট তিন গণমাধ্যম এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
গত সোমবার সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে যৌথভাবে মামলা করে। মামলায় তারা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানায়। বুধবার এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির পর বিচারক টিমোথি কেলি সাংবাদিকদের প্রেস পাস পুনর্বহালের নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের প্রেস পাস বাতিল করার ক্ষেত্রে সাংবিধানিকভাবে প্রয়োজনীয় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে। বিচারক কেলি বলেন, সরকার কাউকে সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত করার আগে তাকে বিষয়টি জানানোর এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ দেওয়ার সাধারণ নিয়ম রয়েছে।
বিচারকের আদেশ অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রেস পাস ফিরিয়ে দিতে এবং তাদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করতে হবে। এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ১৪ দিন কার্যকর থাকবে, যদি আদালত এর আগে অন্য কোনো নির্দেশ না দেন।
ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আদালতে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর কিছু প্রতিবেদন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। তবে বিচারক কেলি এ যুক্তির পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আগে যেসব প্রতিবেদনকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতির সরাসরি সম্পর্ক দেখানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
অন্যদিকে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকো তাদের মামলায় বলেছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়ায় কোনো গণমাধ্যমকে সরকারি স্থাপনায় সাংবাদিকতা থেকে দূরে রাখা যায় না। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলে।
এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আরও কয়েকটি বড় মার্কিন গণমাধ্যমও সংহতি প্রকাশ করে। হোয়াইট হাউসের ভিডিও ও আলোকচিত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে কয়েকটি গণমাধ্যম সাময়িকভাবে অংশগ্রহণ বন্ধ রাখে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আলোচনায় আসে।
আদালতের সর্বশেষ আদেশটি স্থায়ী রায় নয়। ১৪ দিনের জন্য সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করা হয়েছে এবং মূল মামলায় সাংবিধানিক অধিকার ও সরকারের ক্ষমতার বিষয়টি আরও বিচারাধীন থাকবে। ফলে পরবর্তী শুনানিতে নিষেধাজ্ঞার বৈধতা নিয়ে আদালতের আরও সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au