বিশ্বজুড়ে স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশে কী করবে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাড়ছে। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ কমে যাওয়া, সাইবার বুলিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং অতিরিক্ত…
অস্ট্রেলিয়ায় কথিত উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের আরও কঠোর ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ওয়ান নেশন। দলটির নেতা ও কুইন্সল্যান্ডের সিনেটর পলিন হ্যানসন অভিযোগ করেছেন, সন্ত্রাসবাদে উসকানি ও নিয়োগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লেবার সরকার ব্যর্থ হচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ান নেশন এ দাবি জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, মেলবোর্নের এক ধর্মীয় বক্তা অস্ট্রেলিয়ায় খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে অনুসারীদের ‘অস্ত্র তুলে নেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন বলে ওই দিন বিভিন্ন প্রতিবেদনে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিবৃতিতে ওই বক্তার নাম বা কথিত বক্তব্যের বিস্তারিত উৎস উল্লেখ করা হয়নি।
পলিন হ্যানসন বলেন, সরকারের প্রথম দায়িত্ব হলো অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তার অভিযোগ, লেবার সরকার এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বন্ডাইতে একটি সন্ত্রাসী হামলায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এখন অস্ট্রেলীয়রা এমন প্রতিবেদন পড়ছেন, যেখানে একজন ইসলামি ধর্মীয় বক্তাকে অস্ট্রেলিয়ার খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে অনুসারীদের অস্ত্র তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যাচ্ছে। আলবানিজ ও বার্ককে আর কতটা শুনতে হবে?’
এখানে হ্যানসন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ককে বোঝাতে তাদের নাম উল্লেখ করেছেন।
ওয়ান নেশনের অভিযোগ, লেবার ও গ্রিনস পার্টি পুরো সমাজের ওপর বিস্তৃত আইন প্রয়োগের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে, অথচ দলটির মতে, উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সরাসরি লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
হ্যানসন বলেন, পুরো দেশের মানুষকে উদ্দেশ্য করে বক্তৃতা না দিয়ে সন্ত্রাসী সহিংসতায় উৎসাহ দেওয়া উগ্রপন্থী ইসলামি ধর্মীয় বক্তা, সন্ত্রাসী নিয়োগকারী এবং তাদের সহায়তাকারী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সরাসরি আইন করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ‘খ্রিষ্টানরা জিহাদের ডাক দিচ্ছে না। হিন্দুরাও জিহাদের ডাক দিচ্ছে না।’

বন্ডাই বিচে হামলায় নিহত ও আহতদের স্মরণে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে শ্রদ্ধা। ছবিঃ এবিসি নিউজ
মসজিদ ও ইসলামি প্রার্থনাকেন্দ্র নিয়ে কঠোর পদক্ষেপের দাবি
ওয়ান নেশন উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে দলটি মনে করে এমন মসজিদ ও ইসলামি প্রার্থনাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
হ্যানসনের অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরের আবাসিক এলাকায় এসব কেন্দ্র গড়ে উঠছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সেখানে সন্ত্রাসী নিয়োগ ও সন্ত্রাসের পক্ষে প্রচারণা পর্যাপ্ত নজরদারি ছাড়াই চলতে পারে।
তিনি অস্ট্রেলিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা এএসআইও এবং ফেডারেল পুলিশ, এএফপিকে এসব নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে প্রয়োজনীয় অর্থ, জনবল ও লক্ষ্যভিত্তিক আইনগত ক্ষমতা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
হ্যানসন বলেন, বর্তমান আইন যথেষ্ট না হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে।
আইএসে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ ঠেকানোর দাবি
বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ ঠেকানোরও দাবি জানিয়েছে ওয়ান নেশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, যারা স্বেচ্ছায় ইসলামিক স্টেট বা আইএসে যোগ দিয়েছিল, তারা অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বেছে নিয়েছিল। এসব ব্যক্তির অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের কাছে ওয়ান নেশনের প্রস্তাবিত ‘ফরেন টেররিস্ট ফাইটার্স বিল’ সমর্থনের দাবি জানান হ্যানসন।
তবে বিবৃতিতে বিলটির বর্তমান সংসদীয় অবস্থান বা এর নির্দিষ্ট বিধান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি।
‘ডু নট ট্রাভেল’ দেশের নতুন অভিবাসন বন্ধের দাবি
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (DFAT) যেসব দেশকে সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ ও সহিংস অপরাধের গুরুতর ঝুঁকির কারণে ‘ডু নট ট্রাভেল’ বা ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে, সেসব দেশ থেকে নতুন অভিবাসন অবিলম্বে বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছে ওয়ান নেশন।
হ্যানসনের বক্তব্য, অস্ট্রেলীয় সরকার যখন বিদেশ থেকে কারা দেশে প্রবেশ করবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন নিজেদের দেওয়া নিরাপত্তা সতর্কতাকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
উগ্রপন্থায় সরকারি অর্থায়ন নিয়ে স্বচ্ছতার দাবি
উগ্রপন্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সরকার ইতোমধ্যে কিছু অনুদান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
এ কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ট্রেলিয়ার করদাতাদের অর্থ ইসলামি কোনো সংগঠনকে দেওয়া হচ্ছে কি না, যেসব সংগঠন সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত বা সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে ওয়ান নেশন।
বিবৃতির শেষ দিকে হ্যানসন বলেন, ‘বন্ডাইর ঘটনা অজুহাতের অবসান ঘটানোর জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত ছিল। এই সরকারের রাজনৈতিক কাপুরুষতার মূল্য যেন অস্ট্রেলীয়দের জীবন দিয়ে দিতে না হয়।’
ওয়ান নেশনের এই বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়ায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, অভিবাসন নীতি, বিদেশি সন্ত্রাসী যোদ্ধাদের প্রবেশ এবং ইসলামি সংগঠনগুলোকে সরকারি অর্থায়নের বিষয়ে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। বিবৃতিতে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ ও দাবির স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au