বিশ্বজুড়ে স্কুলে মোবাইল নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশে কী করবে?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাড়ছে। শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ কমে যাওয়া, সাইবার বুলিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং অতিরিক্ত…
২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে চিহ্নিত করেছে ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬’। দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি এই পরিস্থিতির জন্য পাকিস্তানের অতীতের নীতিকে দায়ী করে তীব্র মন্তব্য করেছেন।
সন্ত্রাসবাদে হতাহত, হামলার সংখ্যা, অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি এবং অপহরণসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনায় ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে পাকিস্তানকে চিহ্নিত করেছে ‘গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬’।
ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) প্রকাশিত এই সূচকে পাকিস্তানের পর রয়েছে বুরকিনা ফাসো, নাইজার ও নাইজেরিয়া। তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান দশম এবং আফগানিস্তান রয়েছে একাদশ স্থানে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে ১ হাজার ৪৫টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৩৯ জন। ২০২৪ সালে হামলার সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৮টি। অর্থাৎ হামলার সংখ্যা কিছুটা কমলেও প্রাণহানি বেড়েছে।
আইইপির হিসাবে, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে অপহরণ বা পণবন্দি করার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল ১০১টি, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৬৫৫-তে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা ২৮ শতাংশ এবং হামলার ঘটনা ২২ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ।
আইইপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সংঘটিত মোট সন্ত্রাসী হামলার ৭৪ শতাংশই হয়েছে এই প্রদেশে। একই সময়ে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের ৬৭ শতাংশের ঘটনাও ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়ায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানের এই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইইপির তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে টিটিপি পাকিস্তানের অন্যতম সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলায় যত মানুষ নিহত হয়েছেন, তাঁদের ৫৬ শতাংশের মৃত্যুর জন্য টিটিপিকে দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
শুধু খাইবার পাখতুনখোয়াতেই ২০২৫ সালে টিটিপি ৫৯৫টি হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূচকে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত হুসেন হাক্কানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেছেন।
তিনি পাকিস্তানের অতীতের জঙ্গিবাদ ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের নীতির সমালোচনা করে বলেন, কয়েক দশক আগে যে কট্টরপন্থী জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, এখন পাকিস্তানকেই তার পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।
হাক্কানি রূপক অর্থে লেখেন, “নিজের বাড়ির পেছনে সাপ পুষলে একদিন সেই সাপ বাড়ির লোককেও কামড়ায়।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে পাকিস্তান শিক্ষা নেবে কি না।
তবে হাক্কানির মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত। আইইপির সূচকে পাকিস্তানের শীর্ষ অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে সন্ত্রাসী হামলা, হতাহতের সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পরিমাপযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে।
আইইপির বিশ্লেষণে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধির সঙ্গে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির সম্পর্কও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেওয়ার পর পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় টিটিপির তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।
ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়া এখন অন্যতম প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হয়ে উঠেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা বৃদ্ধি দেশটির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার.কম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au